ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপের চোখ রাঙানি, দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, অস্বস্তি কাটবে কি?

ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ রাজ্যবাসীর জন্য স্বস্তির বার্তা নয়, বরং দুর্যোগের পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে হাঁসফাঁস অবস্থা এখনও কাটেনি, বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতেও অস্বস্তি কমছে না। রোদ-মেঘের লুকোচুরি খেলার মধ্যেই আবহাওয়া অফিস জানালো, আগামী কয়েক দিন প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বৃষ্টি আদৌ অস্বস্তি কমাবে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তা
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম-মধ্য এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাব ফিরোজপুর, কর্ণাল, মিরাট, বারাণসী, জামশেদপুর এবং দিঘার ওপর দিয়ে বিস্তৃত রয়েছে। এই দ্বৈত প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আকাশ ঘনঘোর বর্ষার মেঘে ঢাকা পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মৌসুমি বায়ুর জোরদার প্রভাব এবং ঘূর্ণাবর্তের কারণে প্রচুর বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস, যা দুর্যোগের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছে না।
২৫ থেকে ২৮শে জুলাই পর্যন্ত টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা
উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রত্যাশিত নিম্নচাপ অঞ্চলের প্রভাবে, ২৫ থেকে ২৮শে জুলাই তারিখের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (আজ): দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি-বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এক বা দুটি জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এছাড়াও, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রাম জেলার এক বা দুটি জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
শুক্রবার: বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া জেলার এক বা দুটি জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত (০৭-২০ সেমি) হতে পারে। পাশাপাশি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এক বা দুটি জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই প্রবল বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে রাজ্যবাসীর মনে একদিকে যেমন জল জমার আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, তেমনই ভ্যাপসা গরম থেকে মুক্তি পাওয়ার আশাও জিইয়ে রয়েছে। তবে, আবহাওয়া দফতর অস্বস্তি কমার বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা না দেওয়ায়, পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।