“সিরিয়াল বাজে জিনিস শেখাচ্ছে, দেখে অনেকে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে”-বললেন মমতা

বৃহস্পতিবার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাজ্যের চলচ্চিত্র, সঙ্গীত ও অভিনয় জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের ‘মহানায়ক শ্রেষ্ঠ সম্মান’-এ ভূষিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ, সঙ্গীতশিল্পী রূপঙ্কর বাগচী এবং অভিনেত্রী গার্গী রায়চৌধুরী-সহ বহু গুণী শিল্পী ও কলাকুশলী এই সম্মান লাভ করেন। তবে পুরস্কার বিতরণের মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী টেলিভিশন সিরিয়ালের বর্তমান গতিপ্রকৃতি এবং বাংলা গানের গুরুত্ব নিয়ে নিজের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরাসরি বাংলা সিরিয়াল নির্মাতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “সিরিয়াল যারা করেন, তাঁদের বলব। আজকাল সিরিয়ালগুলিতে দেখি, এ ওকে বিষ দিচ্ছে, ও ওকে বিষ দিচ্ছে। একটি পরিবারে তিনজন ঝগড়া করছে। একটি বাস্তব চরিত্র তো দুটি ঝগড়াটে চরিত্র। আর এর মাধ্যমে আজেবাজে জিনিস শেখানো হচ্ছে। এর ফলে সমাজে শিশুরা ভুল শিখছে, অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে।” তাঁর এই মন্তব্য বর্তমান সিরিয়ালগুলির নেতিবাচক প্রভাব এবং সমাজের ওপর তাদের ক্ষতিকারক দিকটি তুলে ধরে।

তিনি আরও বলেন, “আমি সমস্ত টিভি সিরিয়ালের মালিকদের বলব, এটা তাঁদের হাতে আছে। দয়া করে খারাপ কিছু শেখাতে যাবেন না। আর সিরিয়াল দীর্ঘায়িত করতে গিয়ে প্রতিদিন গুন্ডামি। ভালো জিনিস দিয়ে বাড়ান, কত উদ্ভাবনী ভালো বিষয় আছে। তা না করে কী করবে, ও ওকে গুলি করছে, ও ওকে বন্দুক ধরছে। আমি যখনই দেখি বন্ধ করে দিই। অন্যরা কী করে জানি না। সারাদিন আমরা কাজে ব্যস্ত থাকি। আমরা কি টেনশন করব? ওটা টেনশনের জিনিস না, রিল্যাক্সেশনের জিনিস।” মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় যে তিনি বাণিজ্যিক লাভের জন্য সিরিয়ালের মান কমানো এবং সমাজে নেতিবাচক বার্তা ছড়ানোর তীব্র বিরোধী।

মুখ্যমন্ত্রী নির্মাতাদের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন: “হাসি-খুশি মজার সামাজিক গল্প তৈরি করুন। যে গল্প আমাদের সংস্কৃতিকে ভালোবাসে। যে গল্প মানুষের বিবেক জাগ্রত করে।” এছাড়াও, বাংলা গানের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “সব সিরিয়ালে আমি দেখি বাংলা গান কোথায়? এরা ভাবে কিছু ঝিকঝ্যাক ধুমধাম দিয়ে দিলেই হয়ে গেল। আরে বাজান না, সমস্যা নেই। কিন্তু টলিউডে বাংলা গানটা তো একটু বেশি করে দেবেন। এটা সবাইকেই ভাবতে হবে।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই সাহসী মন্তব্য রাজ্যের সাংস্কৃতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যেমন গুণী শিল্পীদের প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে টেলিভিশন মাধ্যমে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা এবং বাংলা গানের প্রচারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এক জোরালো বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।