১৫ বছরের কিশোরী নিখোঁজ, মুক্তিপণ চেয়ে মেসেজ, ঝাড়খণ্ড-বিহার জুড়ে সন্ধান, পুলিশের জালে অপহরণকারীরা?

টিউশন পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ৬ দিন পর এক দশম শ্রেণির ছাত্রীর পরিবার এবার মুক্তিপণের মেসেজ পাওয়ার দাবি করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সালানপুর থানা এলাকায়, যেখানে গত শনিবার থেকে ১৫ বছরের ওই কিশোরীর কোনো খোঁজ মিলছে না। পরিবারের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপে তাদের কাছে ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে এবং তারা কিছু টাকা অনলাইনে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আসানসোল এবং সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড-বিহার সীমান্তে।
মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে ঝাড়খণ্ড-বিহারের ইঙ্গিত
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে সালানপুর থানা এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকা আসানসোলে টিউশন পড়তে গিয়েছিল। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। নাবালিকার মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে পুলিশ ঝাড়খণ্ড ও বিহারের বেশ কিছু এলাকার লোকেশন পেয়েছে।
কিশোরীর বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “শনিবার আমার মেয়ে আসানসোলে পড়তে গিয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে আর কিছু খোঁজ পাচ্ছি না। আমরা পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে তার মেয়ে রূপনারায়ণপুরে একা একটি বাসে চড়ছে এবং পরবর্তীতে আসানসোল স্টেশনেও তাকে দেখা গেছে। মোবাইল ফোনের লোকেশন অনুযায়ী, বিহারের মধুপুর ও লক্ষ্মীসরাই স্টেশনেও তার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। সেই সূত্র ধরে পরিবার মধুপুর ও লক্ষ্মীসরাইয়ে গিয়েও মেয়ের খোঁজ পায়নি।
মুক্তিপণের দাবি ও পুলিশের তৎপরতা
নিখোঁজ কিশোরীর বাবা আরও দাবি করেছেন, “মেয়ের মোবাইল থেকে আমাকে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। তাতে বলা হচ্ছে, আমার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে এবং ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে। আমি ইতিমধ্যেই কিছু টাকা অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে পাঠিয়েছি।” তিনি পুরো বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন এবং আকুল আবেদন করেছেন যাতে তার মেয়েকে দ্রুত ফিরিয়ে আনা হয়।
সালানপুর থানার পুলিশ আধিকারিক এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, “গত শনিবার থেকে ওই কিশোরী নিখোঁজ। আমরা অভিযোগ পেয়েছি। মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে এবং যে অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে, সেটি ধরে আমরা তদন্ত করার চেষ্টা করছি। সবদিক খতিয়ে দেখেই পুলিশ এগোচ্ছে।”
পুলিশ মনে করছে, অপহরণকারীরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। মোবাইল ফোনের লোকেশন এবং মুক্তিপণ চাওয়ার ধরন দেখে অনুমান করা হচ্ছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত অপহরণের ঘটনা। পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে এবং নাবালিকাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে জোর কদমে তদন্ত চালাচ্ছে। দ্রুতই এই ঘটনার কিনারা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।