“ভুয়ো ভোটার বাদ দিলে ৭০টা সিটও পাবে না তৃণমূল”- এবার বড় দাবি করলেন মিঠুন

আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। এবার এই বিতর্কে সরাসরি প্রবেশ করলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। গতকাল ডায়মন্ড হারবারে এক জনসভা থেকে তিনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো আলোচনার ঝড় তুলেছে।

মিঠুন চক্রবর্তীর বিস্ফোরক মন্তব্যটি আসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্ববর্তী এক দাবির পাল্টা হিসেবে। সম্প্রতি অভিষেক বলেছিলেন যে আগামী নির্বাচনে বিজেপি বাংলায় ৫০টির বেশি আসন পাবে না। এর জবাবে মিঠুন স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ভোটার লিস্ট থেকে ভুয়ো ভোটার বের করে দিলে তৃণমূল ৭০টা সিটও পাবে না।” তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

এদিনের সভায় মিঠুন চক্রবর্তী অভিযোগ করেন যে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তিনি দাবি করেন, “ওরাও (তৃণমূল) জানে, এই ভুয়ো নাগরিকদের বাদ দিলে ওরা ৭০টা সিটও পাবে না। তাই তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হতেই তা আটকাতে তৃণমূল মরিয়া চেষ্টা করছে।” তাঁর এই অভিযোগ সরাসরি শাসকদলের দিকে আঙুল তুলেছে, যা তৃণমূল-বিজেপি সংঘাতকে আরও তীব্র করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

একইসঙ্গে, তিনি তৃণমূলের পক্ষ থেকে ওঠা “ভিন রাজ্যে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার চলছে” অভিযোগকেও খারিজ করে দেন। মিঠুনের স্পষ্ট বক্তব্য, “দেশের কোথাও বাঙালিদের ওপর কোনও অত্যাচার হয়নি। ভোটের মুখে তৃণমূল এটাকে ইস্যু করে কাজে লাগাতে চাইছে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগ এনেছেন।

বিজেপি নেতা জোর দিয়ে বলেন যে কোনো সত্যিকারের নাগরিককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না, বরং কেবলমাত্র যারা “বেআইনিভাবে প্রবেশ করেছেন” তাদেরই চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিজেপি ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা এবং যৌক্তিকতাকে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

নিজের কর্মীদের উদ্দেশে মিঠুন চক্রবর্তী বার্তা দেন, “প্রতিটি এলাকায় খোঁজখবর শুরু করুন, কারা অনুপ্রবেশ করে বাংলায় রয়েছে। কোনও আক্রমণ হলে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।” এই বার্তা শুধু কর্মীদের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয় না, বরং এই ইস্যুতে বিজেপি যে একটি বড় ধরনের আন্দোলনের পথে হাঁটতে চাইছে, তারও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। সভায় তিনি দুটি ফোন নম্বরও শেয়ার করেন, যাতে স্থানীয় মানুষজন সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা জানাতে পারেন।

মিঠুন চক্রবর্তীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ভোটের আগে ভোটার তালিকা ইস্যুতে বিজেপির এই জোরালো অবস্থান তৃণমূলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে এবং আগামী দিনে দুই দলের মধ্যেকার বাগযুদ্ধ আরও তীব্র রূপ ধারণ করবে।