“তৃণমূলের বিসর্জন অনিবার্য”, হিন্দুদের উপর হামলা নিয়ে সরব মিঠুন চক্রবর্তী, কড়া হুঁশিয়ারি

রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং হিন্দুদের উপর কথিত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সরব হলেন অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। বৃহস্পতিবার (২৪শে জুলাই) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন এবং কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মিঠুনের স্পষ্ট বার্তা, মুর্শিদাবাদের মতো ঘটনা আবার ঘটলে বিজেপি চুপ করে থাকবে না এবং এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ‘বিসর্জন অনিবার্য’।

মিঠুনের হুঁশিয়ারি: “আর চুপ থাকব না”
মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে হিন্দুদের উপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “যদি মুর্শিদাবাদের মতো ঘটনা (সাম্প্রদায়িক হিংসা বা হিন্দুদের উপর হামলা) আর একবার ঘটে, তাহলে আর আমরা চুপ করে থাকব না।” এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মিঠুনের এই হুঁশিয়ারি তৃণমূলের প্রতি বিজেপির ক্রমবর্ধমান কঠোর অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

“তৃণমূলের বিসর্জন অনিবার্য”
মিঠুন চক্রবর্তীর আক্রমণ শুধু হুঁশিয়ারিতেই থেমে থাকেনি। তিনি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিসর্জন’ চেয়েছেন। তাঁর কথায়, “এবারে তৃণমূলের বিসর্জন অনিবার্য।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিঠুনের এই মন্তব্য আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার একটি প্রয়াস। পাশাপাশি, এটি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে উস্কে দেওয়ার একটি চেষ্টাও বটে।

রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া
মিঠুন চক্রবর্তীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁর মন্তব্যকে সমর্থন জানানো হয়েছে এবং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস মিঠুনের এই মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূল নেতাদের দাবি, বিজেপি রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে চলা কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মিঠুন চক্রবর্তীর মতো একজন পরিচিত মুখের এমন কড়া মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। আগামী দিনে এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে কতটা প্রভাবিত করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।