বাঙালি-হেনস্থার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী সরব, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নীরব!

ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্থা করার অভিযোগ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। ওড়িশা, অসম, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানার মতো একাধিক রাজ্য থেকে এই ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে। দিল্লিতে তো বাঙালি শ্রমিকদের ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ পর্যন্ত কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু অন্যদিকে, এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নীরবতা বজায় রেখেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা বনাম সৌরভের মন্তব্য
সম্প্রতি হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি এসেছে বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, মালদহ, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর— এই জেলাগুলি থেকে যাওয়া বাঙালি শ্রমিকদের বেছে বেছে সংকটে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই বাঙালি-হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২৭শে জুলাই নানুর দিবসের পর থেকে এই ভাষা আন্দোলন শুরু হবে।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার (২৪শে জুলাই) এই বাঙালি-হেনস্থার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি এবং বাংলার ‘মহারাজ’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। বাংলার বহু খেলোয়াড় কাজের সূত্রে ভিনরাজ্যে যান, সেই প্রসঙ্গ টেনে সৌরভকে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দেন, “আমি বাংলায় বড় হয়েছি। কলকাতায় বড় হয়েছি। এই রাজ্যেই আমার সব কিছু। আমি আমারটা বলতে পারি। এর বাইরে কোথায় কী হয়েছে, আমার জানা নেই।” সৌরভের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন মত প্রকাশ পাচ্ছে।
ক্রমবর্ধমান বিভাজন ও ভাষা আন্দোলনের ডাক
বাঙালি শ্রমিকদের প্রতি এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে ‘বাঙালি হেনস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন। তাঁর ভাষা আন্দোলনের ডাক এই বিতর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা বাঙালির আত্মপরিচয় এবং অধিকার রক্ষার প্রশ্নে এক নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো একজন জনপ্রিয় বাঙালি ব্যক্তিত্বের ‘অজ্ঞতা’ প্রকাশ অনেককে হতাশ করেছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এই হেনস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। এই ঘটনা একদিকে যেমন ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই বাঙালি পরিচয়ের উপর আঘাতের বিরুদ্ধে রাজ্যের রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়ার ভিন্ন রূপ তুলে ধরেছে।