দারিদ্র্যের লড়াইয়ে নাচের স্বপ্ন! ব্যারাকপুরের সিভিক ভলান্টিয়ার ‘ডান্স আকাদেমি’ গড়ে অবাক করলেন সকলকে

পেশায় পুলিশের গাড়ির চালক, নিউ ব্যারাকপুর থানায় কর্মরত একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে। কিন্তু এর বাইরেও তার একটি ভিন্ন পরিচয় আছে, যা সমাজের এক ভিন্ন দিককে আলোকিত করছে। তিনি রানা সরকার, যিনি নিজের অমোঘ নেশা ‘নাচ’ কে বাঁচিয়ে রেখেছেন, এবং সেই নেশা দিয়েই তৈরি করেছেন নিজস্ব ডান্স আকাদেমি, যেখানে ছোট থেকে বড় সবাই নাচ শিখছে।
দারিদ্র্যের লড়াইয়ে নাচের স্বপ্ন:
রানার ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি ছিল এক তীব্র টান। কিন্তু পরিবারের আর্থিক প্রতিকূলতার কারণে তাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ। সিভিক ভলান্টিয়ারের দায়িত্ব পালন করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে এর মধ্যেও তিনি তার শৈশবের স্বপ্নকে ভুলতে পারেননি। ডিউটির পর পোশাক পরিবর্তন করে রানা এক নিবেদিতপ্রাণ নৃত্যশিক্ষক হয়ে ওঠেন, যখন তিনি তার আকাদেমিতে খুদে থেকে বড় শিক্ষার্থীদের নাচ শেখান। ছোটবেলা থেকেই রানার নাচের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়েছিলেন অনেকে, তার প্রথাগত তালিমও রয়েছে।
সংস্কৃতি ধরে রাখার প্রচেষ্টা ও থানার সহায়তা:
রানা সরকারের এই প্রচেষ্টা শুধু নাচ শেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতিকে ধরে রাখার এক নিবিড় সাধনা। ডিউটি শেষ করে ইউনিফর্ম খোলার পর তিনি সম্পূর্ণভাবে ভুলে যান যে তিনি একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। তখন তিনি কেবল একজন নাচের সাধক, যা তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। এই মহৎ কাজে থানা থেকেও তিনি যথেষ্ট সহায়তা পান বলে জানিয়েছেন রানা। ব্যারাকপুর কমিশনারেটের সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রানা নিজেই তার এই যাত্রার কথা তুলে ধরেছেন।
আকাদেমির ব্যাপ্তি ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন:
রানার এই ডান্স আকাদেমির শুরুটা হয়েছিল একটি ছোট উদ্যোগ হিসেবে। কিন্তু এখন এর ব্যাপ্তি অনেক বড় হয়েছে। চকচকে ক্লাসরুমে বহু ছাত্রছাত্রী রানার কাছে নাচ শিখতে আসে। শুধু নাচ নয়, রানা তার শিক্ষার্থীদের একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনও শেখান, যা তাদের সামগ্রিক বিকাশে সহায়তা করে। তার এই উদ্যোগ দেখে সমাজের অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ব্যারাকপুরেই এর আগে একজন সিভিক ভলান্টিয়ার দরিদ্রদের জন্য ‘৫ টাকার দোকান’ খুলে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন, যেখানে মাত্র ৫ টাকায় জামাকাপড় পাওয়া যেত। সেই সময় এই বিষয়টি সমাজমাধ্যমে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। রানার এই উদ্যোগও সমাজের কাছে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে, যেখানে পেশার পাশাপাশি নেশাকে পাথেয় করে সমাজের প্রতিও ইতিবাচক অবদান রাখা সম্ভব।