নদীর বাঁধে উদ্ধার হলো দেহ, TMC কর্মীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ মুর্শিদাবাদে

রাজ্যের দুই প্রান্তে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া খুনের ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত দুই ব্যক্তিরই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যোগ ছিল বলে জানা গেছে। একটি ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে, যেখানে এক সক্রিয় তৃণমূল কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে খুন হয়েছেন এক পঞ্চায়েত সদস্যের ভাইপো। এই দুটি ঘটনা রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থানার আলুগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সেহালাই গ্রামে। নিহত তৃণমূল কর্মী ষষ্ঠী ঘোষ (৫৫) বুধবার বিকেলে মাঠের কাজে শ্রমিক দেখতে বেরিয়েছিলেন। রাত আটটা নাগাদ তার বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে কুয়ে নদীর বাঁধের ধারে তার রক্তাক্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ষষ্ঠী ঘোষের স্ত্রী শ্যামলী ঘোষের মতে, এমনটা হবে তা তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি। মৃতের জামাই ভীমদেব পালের দাবি, এর আগেও ষষ্ঠীকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং এই ঘটনায় দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
একই দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপেও ঘটেছে আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মধুসূদনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের ভাইপোকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাড়ির কাছে একটি মাঠ থেকে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়। এই খুনের কারণ এখনও স্পষ্ট না হলেও, তৃণমূলের সঙ্গে যোগ থাকার কারণে এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। কাকদ্বীপ থানার পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই জোড়া খুনের ঘটনায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এভাবে খুন হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যদিও পুলিশ উভয় ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, তবুও এই হত্যাকাণ্ডগুলির পেছনে রাজনৈতিক হিংসার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।