FTA-স্বাক্ষর করতে লন্ডনে মোদী, জেনেনিন এই চুক্তিতে কী লাভ হবে ভারতের?

তিন বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বুধবার লন্ডনে পৌঁছেছেন। লন্ডন বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ নেতারা এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ভারতীয়, যারা ঢোল বাজিয়ে এবং ‘মোদী-মোদী’ স্লোগান দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। এই চুক্তি উভয় দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর বার্তা: অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারে জোর
লন্ডনে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজের টুইটে লেখেন, “আমি লন্ডনে পৌঁছেছি। এই সফর আমাদের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে খুবই সহায়ক হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের জন্য সমৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। বিশ্বব্যাপী অগ্রগতির জন্য ভারত-ব্রিটেনের শক্তিশালী বন্ধুত্ব অপরিহার্য।”
স্টারমারের বক্তব্য: ব্রিটেনের জন্য ‘বড় জয়’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এই চুক্তিকে ব্রিটেনের জন্য একটি “বড় জয়” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই FTA চুক্তিটি হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে, ব্যবসার জন্য নতুন সুযোগ আনবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটাবে। তাঁর মতে, এর ফলে পোশাক, জুতো এবং খাদ্যপণ্যের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে।
চুক্তির মূল দিক: বাণিজ্য ও শুল্ক হ্রাস
এই FTA চুক্তির ফলে ভারতের ৯৯% রফতানির ওপর থেকে ব্রিটেন শুল্ক প্রত্যাহার করবে। অন্যদিকে, ভারত ৯০% ব্রিটিশ পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- হুইস্কি এবং গাড়িতে লাভ: ব্রিটিশ হুইস্কির ওপর শুল্ক ১৫০% থেকে কমিয়ে প্রথমে ৭৫% এবং পরবর্তীতে ১০ বছরে ৪০%-এ নামিয়ে আনা হবে। এতে ব্রিটিশ মদ প্রস্তুতকারীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।
- অন্যান্য পণ্য: ব্রিটেন থেকে ভারতে সফট ড্রিংকস, প্রসাধনী, গাড়ি, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্যের রফতানি সহজ হবে।
- বিনিয়োগ: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জানিয়েছেন, প্রায় ৬ বিলিয়ন পাউন্ডের (প্রায় ৬৩,০০০ কোটি টাকা) নতুন বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যিক চুক্তি হতে চলেছে। এর মধ্যে ব্রিটেনের বাজারে ভারতীয় কোম্পানির সম্প্রসারণ এবং ভারতীয় বাজারে ব্রিটিশ কোম্পানির নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
এছাড়াও, দুই দেশের নেতারা একটি নতুন এবং ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন, যা প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, জলবায়ু, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করবে। এই চুক্তির ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে ভারত-ব্রিটেনের মোট বাণিজ্য ৩৯% বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।