পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ, পুরুলিয়ার আড়শায় বনধে ধুন্ধুমার লাঠিচার্জের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

পুলিশি নির্যাতনে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরুলিয়ার আড়শা। বুধবার বিজেপির ডাকা ১২ ঘণ্টার বনধে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, বনধ সমর্থকদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। একাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, নিহত যুবকের পরিবার দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবিতে অনড়।

ঘটনার পটভূমি:
আড়শার বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী বিষ্ণু কুমারের মৃত্যু নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত। গত ১৬ জুলাই মোবাইল চুরির সন্দেহে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায় বলে পরিবারের অভিযোগ। এরপর বাড়ি ফেরার পর থেকেই বিষ্ণু অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং গত শনিবার তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, পুলিশি নির্যাতনের কারণেই বিষ্ণুর মৃত্যু হয়েছে। যদিও পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বিষ্ণুর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার লিভার, কিডনি এবং হার্টের সমস্যা ছিল। তবে পরিবারের সদস্যরা এই রিপোর্টে সন্তুষ্ট নন।

পরিবারের দাবি ও আইনি পদক্ষেপ:
বিষ্ণুর স্ত্রী নমিতা কুমার বিচার চেয়ে বলেন, “স্বামীকে থানায় নিয়ে যাওয়ার আগে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। থানা থেকে ফেরার পরই কেন অসুস্থ হয়ে পড়লেন?” পরিবারের সদস্যরা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ। এরপর বিষ্ণুর ভাই সমন কুমার ইমেল মারফত পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। পরিবার দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবিতে অনড় থাকায় এখনও পর্যন্ত মৃতদেহ গ্রহণ করেনি। এই বিষয়ে বিজেপির সহায়তায় পরিবারের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। আদালত পুলিশকে কেস ডায়েরি জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

বনধ ও পুলিশি তৎপরতা:
বিষ্ণু কুমারের মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের দাবিতে বুধবার আড়শায় ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক দেয় বিজেপি। সকাল থেকেই বনধ সমর্থকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। বিজেপির অভিযোগ, পুলিশ শান্তিপূর্ণ মিছিলে লাঠিচার্জ করে এবং পাঁচজন কর্মীকে আটক করে। এর প্রতিবাদে স্থানীয়রা আড়শা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান এবং আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। বনধের জেরে এদিন আড়শার সমস্ত দোকানপাট বন্ধ ছিল।

বিরোধী রাজনৈতিক চাপ:
বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো ইতিমধ্যেই মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। সিপিএম সহ অন্যান্য বিরোধী দলও পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি গৌতম রায় বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি বিষ্ণুকে হত্যা করা হয়েছে এবং সঠিক ময়নাতদন্ত করা হয়নি। আদালতের নির্দেশে আমরা ন্যায়বিচার পাব।” বনধ চলাকালীন পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, “আমাদের কর্মীদের অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। তাদের মুক্তি না দিলে আন্দোলন চলবে।”

এই ঘটনায় একদিকে যেমন পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই অন্যদিকে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।