‘এবার আমাকে বন্দুক রাখতেই হবে’, রিচার স্বীকারোক্তি! কেন এতটা ভয়ে আছেন অভিনেত্রী?

মা হওয়া এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা, তবে অভিনেত্রী রিচা চাড্ডার জন্য এই পথ ছিল উদ্বেগ আর আশঙ্কায় ভরা এক অচেনা যাত্রা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি যে অকপট স্বীকারোক্তি করেছেন, তা অনেককেই অবাক করেছে – রিচা এতটাই উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, তাঁর সদ্যোজাত সন্তানের নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে বন্দুক রাখার কথাও ভেবেছিলেন। তাঁর এই খোলামেলা মন্তব্য আধুনিক সমাজের পিতা-মাতার গভীরতর উদ্বেগেরই প্রতিচ্ছবি।

লিলি সিংহের সঙ্গে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে রিচা চাড্ডা তাঁর গর্ভাবস্থা এবং মাতৃত্বের প্রাথমিক দিনগুলির মানসিক টানাপোড়েন নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই তিনি দারুণ আতঙ্কে ছিলেন। বিশ্বজুড়ে সামাজিক ও পরিবেশগত যে অস্থিরতা বিরাজ করছে – হিংসা, বোমা বিস্ফোরণ, দুর্ঘটনা – এসবের মাঝে নিজের সন্তানকে বড় করা নিয়ে তিনি গভীর দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন।

জুনাইরার আগমন ও আতঙ্কের রেশ:

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রিচা চাড্ডা কন্যাসন্তান জুনাইরার জন্ম দেন। কিন্তু মেয়ের জন্মের পরও সেই আতঙ্ক সম্পূর্ণভাবে কাটেনি। অভিনেত্রীর কথায়, “এই সময়ে ভারতে একটি মেয়ের জন্ম হওয়াটা নিজেই একটা বড় চিন্তার বিষয় ছিল আমার কাছে। এমনকি মাথায় এসেছিল বাড়িতে বন্দুক রাখার কথাও।” যদিও এখন সেই ভাবনা থেকে সরে এসেছেন তিনি, তবে তাঁর এই কথাগুলি সমাজের একটি বৃহত্তর উদ্বেগকে তুলে ধরেছে। এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য, মেয়েকে এমনভাবে গড়ে তোলা যাতে সে এই পৃথিবীর চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারে।

স্বাধীনচেতা নারীর মাতৃত্বের দ্বন্দ্ব:

রিচা শুধু বাইরের জগতের আতঙ্ক নিয়েই নয়, মাতৃত্বের নিজস্ব মানসিক টানাপোড়েন নিয়েও মুখ খুলেছেন। একজন স্বাধীনচেতা নারী হিসেবে সন্তান ধারণের সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক, এই প্রশ্ন তাঁর মনে উঁকি দিয়েছিল। তিনি বলেন, “গর্ভধারণ করার পরও মনে হত—এই সিদ্ধান্তটা কি ঠিক? কারণ একজন স্বাধীনচেতা নারী হিসেবে বুঝতে পারি, সন্তান মানে এক বিশাল দায়িত্ব। প্রথম ছয় মাস শুধু খাদ্যের জন্যই সে পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকবে আমার উপর। এমন এক জীবনের জন্য আমি তৈরি তো?”

তবে সময়ের সাথে সাথে রিচার এই মানসিকতা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। এখন তাঁর লক্ষ্য, মেয়েকে তাঁর মতোই আত্মনির্ভর ও সাহসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, যাতে সে নিজের পথে চলতে পারে।

অভিনেত্রী রিচা চাড্ডাকে শেষ দেখা গিয়েছে সঞ্জয় লীলা বনশালির ‘হীরামান্ডি’ ওয়েব সিরিজে, যেখানে তিনি ‘লাজ্জো’ চরিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন। অন্যদিকে তাঁর স্বামী আলি ফজল সম্প্রতি অনুরাগ বসুর ‘মেট্রো ইন দিনো’ ছবিতে কাজ করেছেন। রিচার এই অকপট স্বীকারোক্তি শুধু সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন নয়, বরং আজকের দিনে বাবা-মায়েদের যে গভীর উদ্বেগ এবং মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তারই এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।