মাসে মাসে ১০ হাজার টাকা, নয়তো পরপুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে দিতে হবে! স্ত্রীকে খুনের পর স্বীকারোক্তি স্বামীর

দক্ষিণ ২৪ পরগনার নিউটাউনের একটি গেস্ট হাউজে এক গৃহবধূকে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রী ইতিকা মণ্ডলে-কে খুন করেছেন স্বামী বিশ্বজিৎ মণ্ডল। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বিশ্বজিৎ নিজেই খুনের কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে বিশ্বজিৎ জানিয়েছেন, তিনি তাঁর স্ত্রী ইতিকার অন্য পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি দেখতে পেয়েছিলেন। এই বিষয়ে ইতিকার সঙ্গে তাঁর একাধিকবার ঝামেলা হয়। সোমবার নিউটাউনের গৌরাঙ্গ নগর সাহা মার্কেটের একটি গেস্ট হাউজে ওঠার পর এই বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে আবারও কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
জেরায় বিশ্বজিৎ জানান, ইতিকা তাঁকে বলেন যে, তাঁর প্রচুর টাকার প্রয়োজন এবং প্রতি মাসে তাঁকে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে তিনি তাঁর ইচ্ছে মতো জীবনযাপন করবেন। এই কথা শুনেই তাঁদের মধ্যে বিবাদ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।
কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাগের বশে বিশ্বজিৎ একটি বেল্ট দিয়ে ইতিকার গলায় ফাঁস পরিয়ে দিয়ে বলেন, “মেরে দেবো…”। বেল্টের ফাঁস লেগে ইতিকার শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়।
স্ত্রীর মৃত্যুর পর বিশ্বজিৎ নিজেই ১০০ নম্বরে ডায়াল করে পুলিশকে খবর দেন। এরপর তিনি নিজের মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও রেকর্ড করে জানান যে কেন তিনি স্ত্রীকে খুন করেছেন।
নিউটাউন থানার পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গেস্ট হাউজের তিনতলার একটি ঘর থেকে ওই গৃহবধূর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ মণ্ডলের বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের হোসেনপুরে। আজ, বুধবার ধৃতকে বারাসাত আদালতে পেশ করা হবে এবং পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানাবে। এই ঘটনা গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।