পুরুলিয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ধুন্ধুমার, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের দাবিতে পুলিশের লাঠিচার্জ!

পুরুলিয়ার আড়ষা যেন এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। এক ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে ওঠা অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা, যার রেশ পড়েছে আজকের ডাকা বনধে। দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবিতে গ্রামবাসীদের ডাকা বনধ ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটেছে, যেখানে জোর করে রাস্তা আটকানোর চেষ্টা করায় পুলিশকে শেষ পর্যন্ত লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের সরাতে হয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
গত ১৬ই জুলাই আড়ষা থানার বিরুদ্ধে এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিষ্ণু কুমার নামে এক ব্যক্তিকে মোবাইল চোর সন্দেহে থানায় ডেকে মারধর করা হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ। এরপর ১৯শে জুলাই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান। পরিবারের সদস্যদের দৃঢ় অভিযোগ, থানায় ডেকে মারধরের কারণেই বিষ্ণু কুমারের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ বনাম পরিবার: ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ঘিরে বিতর্ক:
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত একটি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করে, যেখানে দাবি করা হয় যে, ফুসফুস, কিডনি এবং হৃদযন্ত্রের জটিল রোগের কারণে বিষ্ণু কুমারের মৃত্যু হয়েছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়, মৃতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই রিপোর্ট পরিবারের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তারা পুলিশের দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করে এবং দাবি জানায়, মৃতদেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হোক।
জনতার প্রতিরোধ ও পুলিশের বলপ্রয়োগ:
পরিবারের এই দাবিতে সমর্থন জানিয়ে আড়ষার গ্রামবাসীরা আজ বনধের ডাক দেয়। সকাল থেকেই এলাকার প্রধান সড়কগুলি অবরোধ করার চেষ্টা করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ প্রথমে অবরোধকারীদের রাস্তা থেকে সরে যেতে নির্দেশ দিলেও, তারা তাতে কর্ণপাত করেননি। শেষ পর্যন্ত, অবরোধ তুলতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়, যার ফলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকজন অবরোধকারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় আড়ষায় চরম টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাইছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট মনগড়া। অন্যদিকে, পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা বলে তাদের পদক্ষেপকে সমর্থন করছে। বিষ্ণু কুমারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে এবং এর পেছনে যদি কোনো পুলিশি নির্যাতন থেকে থাকে, তার বিচার দাবিতে গ্রামবাসীরা অনড়। পুলিশের লাঠিচার্জ এই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের দাবি কতটা পূরণ হয় এবং ন্যায়বিচার কবে মেলে, সেটাই এখন আড়ষার প্রতিটি মানুষের প্রশ্ন।