বিজেপি কর্মী হত্যা মামলা! হঠাৎ কেন গ্রেফতারি? CBI-এর ওপর হাইকোর্টের চাপ

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় কাঁকুড়গাছির বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের মুখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। এই মামলার তদন্তে সম্প্রতি দুই পুলিশ কর্মীকে গ্রেফতার করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে আদালত সিবিআইয়ের কাছে জরুরি রিপোর্ট তলব করেছে। আগামী চার দিনের মধ্যে এই গ্রেফতারির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দিয়ে হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দিতে হবে সিবিআইকে। শুক্রবার আবারও এই মামলার শুনানি ধার্য হয়েছে।

মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ, এই মামলায় ধৃত দুই পুলিশকর্মী রত্না সরকার (সাব-ইন্সপেক্টর) এবং দীপঙ্কর দেবনাথ (হোমগার্ড)-এর জামিন আবেদনের শুনানিতে সিবিআই-এর থেকে তাঁদের গ্রেফতারির কারণ জানতে চেয়েছেন। সিবিআইয়ের আইনজীবী আদালতে সাত দিন সময় চাইলেও, রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি সওয়ালে বলেন, “এই ঘটনায় চার বছর পর সিবিআই হঠাৎ অতিরিক্ত চার্জশিট দিয়েছে। পুলিশ কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন তাঁদের হেফাজতে রাখতে সময় চাওয়া হচ্ছে।” সব পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত সিবিআইকে চার দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

সিবিআই চার্জশিটে নতুন মোড়: অভিযুক্ত পুলিশ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব

২০২১ সালের ২রা মে, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন, কাঁকুড়গাছিতে নিজ বাড়ি থেকে বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে, তাঁকে মারধর করে এবং গলায় তার পেঁচিয়ে খুন করা হয়েছে। মৃত্যুর কিছু সময় আগেই অভিজিৎ সমাজ মাধ্যমে লাইভ করে জানিয়েছিলেন যে, তাঁর বাড়িতে এবং পোষ্যদের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে নারকেলডাঙ্গা থানা এই ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও, পুলিশের তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে অভিজিতের পরিবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। আদালতের নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে আসে। ঘটনার চার বছর পর সম্প্রতি সিবিআই এই মামলায় একটি অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দিয়েছে। জানা গেছে, সেই চার্জশিটে বেলেঘাটার বিধায়ক পরেশ পাল, কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার এবং কাউন্সিলর পাপিয়া ঘোষের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

অতিরিক্ত চার্জশিটে নারকেলডাঙ্গা থানার তৎকালীন ওসি শুভজিৎ সেন, সাব-ইন্সপেক্টর রত্না সরকার এবং হোমগার্ড দীপঙ্কর দেবনাথের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর ভিত্তিতেই গত ১৮ই জুলাই নিম্ন আদালত ওই তিনজনকে ৩১শে জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। বর্তমানে তারা জেলেই বিচারাধীন রয়েছেন।

এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে, ভোট-পরবর্তী হিংসার এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তে সিবিআই ক্রমশ গভীরে প্রবেশ করছে এবং বিচার বিভাগও ঘটনার গভীরে গিয়ে সত্য উদঘাটনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। হাইকোর্টের এই রিপোর্ট তলব তদন্তের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।