অনুব্রতর ‘গড়’ বীরভূমে মমতার আগমন! দিনক্ষণ স্পষ্ট করলেন কাজল, তৃণমূলের নতুন সমীকরণ?

রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন, এবার কি বীরভূমে ‘অনুব্রত-অধ্যায়ের’ পরিবর্তে নতুন নেতৃত্বের উত্থান দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস? জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন্ন বীরভূম সফরের কথা ঘোষণা করেছেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেসে অনুব্রত মণ্ডলের ‘বিরোধী’ হিসেবে পরিচিত জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ। যদিও অনুব্রত বা কাজল কেউ প্রকাশ্যে একে অপরের বিরোধী নন, তবে এই ঘোষণা তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার পালাবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কাজল শেখ জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইলামবাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু-সহ একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করতে বীরভূম আসবেন। এছাড়াও, ভিনরাজ্যে বাঙালিদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে বোলপুরে একটি মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। কাজল শেখের তথ্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর এই কর্মসূচী ২৮ বা ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে পারে। এর মধ্যে প্রশাসনিক বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত।

নেতৃত্বের শূন্যতা এবং কোর কমিটির নিষ্ক্রিয়তা?

অনুব্রত মণ্ডল জেলে যাওয়ার পর বীরভূমে তৃণমূলের কোনো ঘোষিত জেলা সভাপতি নেই। দলীয় সূত্রে খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং একটি কোর কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন, এবং অনুব্রত জেল থেকে ফেরার পরেও সেই কমিটিকেই দল পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, মুখ্যমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফর নিয়ে কোর কমিটির এখনো পর্যন্ত কোনো বৈঠক হয়নি। এই পরিস্থিতিতে কাজল শেখের এককভাবে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচির ঘোষণা জেলার রাজনীতিতে তাঁর ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং কোর কমিটির সম্ভাব্য নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই ঘটনা কি তবে তৃণমূলের ‘কোর কমিটি’ কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে?

২১ জুলাইয়ের মঞ্চে অনুপস্থিতি: অনুব্রত-মমতা সম্পর্কে ফাটল?

সম্প্রতি ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতি এবং তার আগের দিন পুলিশ কর্তৃক তাঁকে মঞ্চের কাছে আটকে দেওয়ার ঘটনা তৃণমূলের অন্দরে এক চাপা চাপানউতোর সৃষ্টি করেছে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য জনসভা থেকে অনুব্রতকে ‘কেষ্টা’ বলে সম্বোধন করে তাঁর প্রতি স্নেহ প্রকাশ করেছেন, তবে তাঁকে জেলা সভাপতির ‘ট্যাগ’ ফিরিয়ে না দেওয়া এবং ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁর অনুপস্থিতি — এই সবকিছুই অনুব্রত-মমতা সম্পর্কে কিছুটা দূরত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে কাজলের অনুগামীরা মনে করছেন।

বীরভূমের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবার চোখ মুখ্যমন্ত্রীর আসন্ন সফরের দিকে। এই সফরে তিনি অনুব্রত মণ্ডলের অবস্থান এবং জেলার তৃণমূলের নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে কী বার্তা দেন, সেটাই দেখার বিষয়। কাজলের এই ঘোষণা কি জেলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, নাকি এটি কেবলই একটি সাময়িক ক্ষমতার পুনর্বণ্টন — উত্তর মিলবে আগামী দিনেই।