“ঋণ ও ধর্মান্ধতায় ডুবে থাকা দেশ…”-রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে চরম কটাক্ষ ও সমালোচনা ভারতের

আবারও রাষ্ট্রসঙ্ঘের মঞ্চে কড়া ভাষায় পাকিস্তানকে জবাব দিল ভারত। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) উচ্চ পর্যায়ের বিতর্কসভায় পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দারের বিতর্কিত বক্তব্যের পর, ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি. হরিশ পাল্টা জবাবে বলেন — “ভারত যেখানে গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বহুত্ববাদে বিশ্বাসী, পাকিস্তান সেখানে সন্ত্রাস ও ধর্মীয় উগ্রতার চোরাবালিতে ডুবে আছে।”

পাকিস্তান যখন আবার কাশ্মীর এবং সিন্ধু জল চুক্তি ইস্যুকে জাতিসংঘে তুলতে চায়, তখন পি. হরিশ সাফ জানিয়ে দেন — “জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং এ বিষয়ে কোনও আপোস নয়।” তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়া দেশগুলোর দ্বিমুখী চরিত্র অত্যন্ত বিপজ্জনক। এমন দেশগুলোকে আর ‘শান্তির বার্তাবাহক’ হিসেবে ভাবার অবকাশ নেই।

আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানের মুখ পুড়েছে কেন?

পি. হরিশের বক্তব্যে উঠে আসে পাকিস্তানের একাধিক গাফিলতির চিত্র:

  • আইএমএফ-এর কাছে বারবার ঋণের জন্য আবেদন।

  • সীমান্তে সন্ত্রাসে মদত এবং নিজেদের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা।

  • আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য পরিবেশন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যখন বিশ্বের কাছে জিরো টলারেন্স ফর টেররিজম একটি মৌলিক নীতি, তখন কেউ যদি সন্ত্রাসের আশ্রয় নেয়, তাদের আর বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায়?”

পহেলগাঁও হামলা এবং সীমান্ত সন্ত্রাস প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান

২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ তুলে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “যেসব দেশ সীমান্ত সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতি লঙ্ঘন করে, তাদের দায় মেটাতেই হবে।” তিনি আরও বলেন, এমন দেশগুলোর উচিত প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, কিন্তু তারা বারবার আন্তর্জাতিক সীমা লঙ্ঘন করে চলেছে।

জাতিসংঘে ভারতের বার্তা— পরিষ্কার এবং কড়া

এই বিতর্কসভা ছিল ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বহুপাক্ষিকতা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের’ ওপর। এই প্রসঙ্গেই পাকিস্তানের দ্বিচারিতা নিয়ে ভারত সরাসরি প্রশ্ন তোলে। ভারতের বক্তব্য— শান্তির কথা বললেও পাকিস্তানের কাজ সম্পূর্ণ বিপরীত।


🌐 ভারতের অবস্থান:
কাশ্মীর ভারতের অংশ, সন্ত্রাসে কোনও সহানুভূতি নেই, শান্তির নামে সন্ত্রাসের প্রচার বরদাস্ত নয়।

⚠️ পাকিস্তানের চিত্র:
অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, সন্ত্রাসে মদতদাতা এবং আন্তর্জাতিক স্তরে একঘরে হওয়ার পথে।


এই পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের শক্ত অবস্থান এবং স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা আবার প্রমাণ করল, বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ আর ধর্মীয় উগ্রতার স্থান নেই — এবং ভারত এই বিষয়ে আপসহীন।