আরজি কর মামলায় নয়া মোড়! CBI-এর গাফিলতির অভিযোগ, আদালতের ভর্ৎসিত

আরজি কর কাণ্ডের শুনানিতে আবারও আদালতের কড়া সমালোচনার মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। সূত্রের খবর, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ নথি ছাড়াই আদালতে হাজিরা দেওয়ায় বিচারক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই ঘটনা সিবিআইয়ের তদন্তের পদ্ধতি এবং পেশাদারিত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
গত ১৪ জুলাই আলিপুর আদালতে আরজি কর মামলার চার্জ গঠন হয়। সেই সময় থেকেই সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে ২২ জুলাই, যখন সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী দেবল ঘোষের সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালত যখন সিবিআইয়ের কাছে মামলার আসল অভিযোগপত্র দেখতে চায়, তখন হতবাক করা তথ্য উঠে আসে। সিবিআই আদালতকে জানায়, টালা থানায় দায়ের করা মূল অভিযোগপত্র তাদের কাছে নেই।
এই তথ্য সামনে আসতেই বিচারপতি ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তদন্তকারী অফিসার এবং সিবিআইয়ের আইনজীবীকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, কেন সম্পূর্ণ নথি নিয়ে আদালতে হাজির হননি। আদালতের এই তিরস্কারের মুখে পড়ে সিবিআই সময় চেয়ে নেয়। বিচারক সরাসরি তদন্তকারী অফিসারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “কেন মিথ্যা বলছেন? রেকর্ড কেন আনা হল না?”
বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কাস্টোডিয়াল ট্রায়াল শুরু হয়েছে এবং এই ধরনের “খামখেয়ালিপনা বরদাস্ত করা হবে না।” এই ঘটনায় সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসারের কাজে বড় ধরনের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। বিচারক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, মামলার আসল অভিযোগপত্র ছাড়াই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীরা এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মামলার মূল ভিত্তি অর্থাৎ অভিযোগপত্র ছাড়া বিচার শুরু হওয়া বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই সংশয় তৈরি করে।
এই ঘটনা একদিকে যেমন সিবিআইয়ের তদন্তের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই রাজ্য জুড়ে আলোড়ন ফেলে দেওয়া আরজি কর কাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করেছে। সিবিআই কিভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং পরবর্তী শুনানিতে সম্পূর্ণ নথি হাজির করতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।