নর্থ বেঙ্গল পাচার চক্রের পর্দাফাঁস! ‘চাকরির টোপে’ ৫৬ জন যুবতী উদ্ধার NJP থেকে

বড় ধরনের মানব পাচারের ছক ভেস্তে দিল রেল পুলিশ! নামী মোবাইল কোম্পানিতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বেঙ্গালুরু নিয়ে যাওয়ার নাম করে তামিলনাড়ুতে পাচারের পরিকল্পনা চলছিল ৫৬ জন যুবতীকে। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ) এবং গভর্মেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)-এর যৌথ তৎপরতায় সোমবার রাতে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) রেল স্টেশন থেকে ওই যুবতীদের উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রেল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতরা হলো উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ার বাসিন্দা জিতেন্দ্রকুমার পাসওয়ান এবং শিলিগুড়ি সংলগ্ন পোড়াঝারের চন্দ্রিকা কর। ধৃতদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সুপারিন্টেনডেন্ট অফ রেলওয়ে পুলিশ (এসআরপি) কুনওয়ার ভূষণ সিং বলেন, “ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
২১ জুলাইয়ের সুযোগ নিয়ে পাচারের ছক?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ২১ জুলাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রেল স্টেশনগুলোর ঢিলেঢালা নিরাপত্তা এবং যাত্রী ভিড়ের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এই বিপুল সংখ্যক যুবতীকে পাচারের পরিকল্পনা ছিল। মূলত চা বাগান অধ্যুষিত জলপাইগুড়ি, বানারহাট, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারের কালচিনি এলাকার এই যুবতীদের টার্গেট করা হয়েছিল। তাদের প্রত্যেকের হাতে ট্রেনের কামরা ও সিট নম্বর লেখা হয়েছিল, যা দেখে পুলিশ আধিকারিকরা রীতিমতো চক্ষুচড়ক গাছ হয়ে যান।
সোমবার রাতে রেল পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে যে, অনেক যুবতীকে পাচার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী এনজেপি রেল স্টেশনে কড়া নজরদারি শুরু হয়। জিআরপির পুলিশ অফিসার আত্রেয়ী গঙ্গোপাধ্যায় ও বর্ষা প্রধানের নেতৃত্বে ২৭ জনের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। এরপর এনজেপি থেকে পাটনাগামী ক্যাপিটাল এক্সপ্রেসে অভিযান চালিয়ে ওই যুবতীদের উদ্ধার করা হয়।
দেহ ব্যবসার পরিকল্পনা?
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছে। ওই যুবতীদের বেঙ্গালুরুতে আইফোনের সংস্থায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হলেও, আদতে তাদের তামিলনাড়ুর হসুর জেলায় নিয়ে গিয়ে দেহ ব্যবসায় নামানোর পরিকল্পনা ছিল। এর আগেও বেশ কয়েকজন তরুণীকে তামিলনাড়ুতে পাচার করা হয়েছে যারা আর বাড়ি ফেরেনি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, রাজ্যের স্কিল ডেভেলপমেন্টের অধীনে দার্জিলিং জেলায় এক মাসের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল এই যুবতীদের। কাউকে হোটেলের রিসেপশনিস্ট আবার কাউকে স্পায়ের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছিল।
উদ্ধারকৃত যুবতীদের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে আরও বড় কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে রেল পুলিশ। এই ঘটনার গোড়ায় পৌঁছতে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলার পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এক যুবতীর অভিভাবক জানান, “আমার মেয়েকে ফোন করে বলা হয় সরকারের তরফে চাকরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিনা পয়সায় সে এক মাস শিলিগুড়িতে ট্রেনিং পায়। এরপর মেয়েকে কাজ দেওয়ার জন্য বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ট্রেনে ওঠার পর জানলাম মেয়েদের কোনো পুলিশি যাচাই ছাড়া নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হয়তো মেয়েদের নিয়ে গিয়ে পাচার করে দেওয়া হত। আর মেয়েদের পাঠাব না। রেল পুলিশের সাহায্যে মেয়েরা বেঁচে গেল। এর জন্য ধন্যবাদ জানাব আরপিএফ ও জিআরপি-কে।”