বাংলার দুর্গাপূজা এবার ৩৬৫ দিন! জগন্নাথধামের আদলে ‘দুর্গাঙ্গন’ গড়ার ঘোষণা মমতার

বাঙালির আবেগের দুর্গাপূজা আর কেবল বছরের পাঁচ দিনের উৎসবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এবার থেকে প্রতিদিন, যেকোনো সময়ই হবে দুর্গাদর্শন! একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে এই যুগান্তকারী ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, ওড়িশার জগন্নাথধামের অনুকরণে বাংলায় গড়ে তোলা হবে এক সুবিশাল ‘দুর্গাঙ্গন’, যেখানে সারাবছরই মা দুর্গার দর্শন ও পূজা করার সুযোগ পাবেন ভক্তরা।

তৃণমূল সুপ্রিমো তাঁর বক্তৃতায় বলেন, “মা দুর্গা আমাদের জাতীয় সম্পদ। জগন্নাথধাম যেমন করে দিয়েছি, আগামী দিন জগন্নাথধামের অনুকরণে একটা দুর্গাঙ্গন আমি বাংলায় করে দেব, সারাবছর যাতে বাংলার মানুষ আসতে পারে, পুজো করতে পারেন।” এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে রাজ্যের পর্যটন শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ধর্মীয় উৎসবের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি মা দুর্গা ও মা কালীকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে জোর চর্চা চলছে, তা লক্ষণীয়। দুর্গাপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মা দুর্গা ও মা কালীর নাম নেওয়াকে কটাক্ষ করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, এখন বিজেপির মুখে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান সরে গিয়ে দুর্গা-কালীর নামে স্লোগান বের হচ্ছে। তিনি সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে প্রশ্ন তোলেন, “একটা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার কী ফল পেয়েছিলেন মনে আছে তো? যে অত্যাচার মহারাষ্ট্রে মতুয়াদের থেকে শুরু করে রাজবংশীর উপর— অসমে মা কালীর মন্দির ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আজ যদি বাংলায় মা কালীর মন্দির ভাঙা হত, তাহলে আপনারা কী করতেন? ডান্স বাংলা ডান্স করতেন? আগে আপনারা বলতেন মমতা দুর্গাপুজো, সরস্বতীপুজো করতে দেয় না। আর ইলেকশনের সময় হঠাৎ করে মা দুর্গার কথা মনে পড়ল?”

উল্লেখ্য, কলকাতার দুর্গাপূজা ইতোমধ্যে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি লাভ করেছে। এর ফলে বছরের প্রায় আট মাস ধরে কলকাতার দুর্গাপূজাকে ঘিরে নানা ধরণের প্রচার পরিকল্পনা চলতে থাকে। শহর ছাড়িয়ে শহরতলিতেও এই নিয়ে সারা বছর ব্যস্ততা লেগে থাকে। রাজ্যে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পর্যটন-অর্থনীতির বিকাশ ঘটেছে, বিদেশ থেকেও প্রচুর পর্যটক আসেন। এই পরিস্থিতিতে যদি একটি স্থায়ী ‘দুর্গাঙ্গন’ গড়ে ওঠে, তাহলে রাজ্যের পর্যটন শিল্প আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। এই উদ্যোগ বাংলার ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পর্যটনকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেবে।