“ওদের দিয়ে জয় বাংলা বলিয়ে ছাড়বো”- হুঙ্কার অভিষেকের! চুপ না থেকে পাল্টা জবাব দিলীপের, বললেন…

রাজ্য বিজেপির নেতাব্যক্তিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা শীতল সম্পর্ক এবং দলের ‘বিভক্তি’ নিয়ে জনশ্রুতি প্রবল। এই আবহে সম্প্রতি এক বিয়েকে কেন্দ্র করে তৃণমূলনেত্রীর সঙ্গে দিলীপ ঘোষকে এক ফ্রেমে দেখা যাওয়ার পর থেকেই তাঁর তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা নতুন করে উস্কে উঠেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় তাঁকে ডাক না পাওয়ায় তিনি দিল্লি চলে গিয়েছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডার ডাকে, সেদিনই অবশ্য জল্পনা কিছুটা থিতিয়ে গিয়েছিল। তবে ২১ জুলাই নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য এবার তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে দিল এবং সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটাল।

২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সভার নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “জয় মা কালী বলিয়েছি, ছাব্বিশের নির্বাচনের পর ওদের দিয়ে জয় বাংলাও বলাব।” কিছুটা এই প্রসঙ্গের সূত্র ধরেই দিলীপ ঘোষকে মঙ্গলবার খড়গপুরের কর্মসূচি থেকে বলতে শোনা গেল, “সব বলব। কিন্তু জয় বাংলা বলব না।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি যে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার মানুষ নন, সে কথাও পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিলেন দিলীপ ঘোষ।

২১ জুলাই তৃণমূলের শহিদ দিবসের পাল্টা কর্মসূচি রেখেছিল বিজেপি। এই দিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কর্মসূচি ছিল উত্তরকন্যায়। সেখান থেকে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে কড়া বার্তা দেন। তবে দিলীপ ঘোষকে সেদিন কোথায় দেখা যাবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর জল্পনা চলছিল। ২১ জুলাইয়ে বিজেপির মঞ্চে না তৃণমূলের মঞ্চে তাঁকে দেখা যাবে, তা নিয়েই চলছিল নানা আলোচনা। জল্পনা উস্কে দিয়ে দিলীপ ঘোষ নিজেও বলেছিলেন, “কোনো না কোনো মঞ্চে তো দেখা যাবেই।” কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাঁকে খড়গপুরের জনসভায় দেখা যায়। সেখান থেকেই তিনি পরোক্ষভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঙ্কারের পাল্টা জবাব দেন এবং নিজের অটল রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন।