২১ জুলাই তৃণমূলের সভা এড়িয়ে অন্য পথে পা বাড়ালেন চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকারা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি যখন তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবস উপলক্ষে উত্তাল, ঠিক তখনই ভিন্ন পথে হেঁটে নজির স্থাপন করলেন রাজ্যের চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। কলকাতার ধর্মতলার মেগা সমাবেশ এড়িয়ে তাঁরা বেছে নিলেন দিল্লিকে, নিজেদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হতে এবং বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে।
‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-এর ব্যানারে প্রায় ১২০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা আজ দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন। আগামীকাল থেকে ২৫শে জুলাই পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলবে দেশের রাজধানীতে। তাঁদের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরা। এছাড়াও, তাঁরা রামলীলা ময়দানে ধর্নাতেও বসবেন, যার উদ্দেশ্য তাঁদের আন্দোলনকে জাতীয় স্তরে নিয়ে যাওয়া।
এক আন্দোলনকারী শিক্ষিকা হতাশা ও দৃঢ়তার মিশেলে জানান, “আমরা বছরের পর বছর ধরে লড়াই করছি। আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিলেও সরকার আমাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে না। তাই এবার দিল্লির পথ ধরলাম। রাজ্য সরকার যখন আমাদের কথা শুনছে না, তখন রাষ্ট্রপতির কাছেই আমাদের শেষ ভরসা।”
এই কর্মসূচির সম্পূর্ণ খরচ, অর্থাৎ রেল টিকিট এবং দিল্লিতে থাকার ব্যবস্থা, শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেরাই বহন করছেন। দিল্লিতে পৌঁছেই তাঁরা প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করবেন, যেখানে রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।
‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’ জানিয়েছে, তারা রাষ্ট্রপতি ভবনে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পাশাপাশি রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও সাক্ষাতের আবেদন জানিয়েছেন। কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের।
এদিকে, কলকাতার ধর্মতলায় যখন ২১শে জুলাইয়ের উৎসবমুখর পরিবেশ, তখন এই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দিল্লি যাত্রা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটিকে তৃণমূল সরকারের প্রতি এক কঠোর বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের একাংশের কথায়, “আমরা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু রাজ্য সরকারের কাছে আমাদের আর কোনো প্রত্যাশা নেই। নিজেদের চাকরি ফিরে পেতে হলে এবার জাতীয় স্তরেই লড়াই করতে হবে।”
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক অস্বচ্ছতা, ঘুষের অভিযোগ এবং এসএসসি কেলেঙ্কারির কারণে হাজার হাজার শিক্ষক তাঁদের চাকরি হারিয়েছেন। কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি নিয়োগ বাতিল করেছে, যার ফলে অসংখ্য কর্মরত শিক্ষকের জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
চাকরি ফেরতের দাবিতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন আন্দোলন করে আসছেন। কখনও ধর্মতলায়, কখনও এসএসসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এবার সেই আন্দোলনের ঢেউ রাজ্যের সীমা পেরিয়ে পৌঁছে গেল দিল্লিতে।
দিল্লিতে তাঁদের এই কর্মসূচি কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে, ২১শে জুলাইয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে তাঁদের দিল্লিমুখী আন্দোলন নিঃসন্দেহে তৃণমূল সরকারের প্রতি একটি প্রতীকী এবং জোরালো বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।