ডুয়ার্সে ফের চিতাবাঘের হামলায় প্রাণ গেল এক খুদের, বাড়ির উঠোন থেকে তুলে নিয়ে গেল শিশুকে

ডুয়ার্সের কলাবাড়ি চা বাগানে ফের চিতাবাঘের হামলায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ির উঠোনে খেলা করার সময় তিন বছরের এক শিশুকে তুলে নিয়ে গেল চিতাবাঘ। এই ঘটনায় পুরো কলাবাড়ি চা বাগান জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বন বিভাগের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, মৃত শিশুটির নাম আয়ূষ ওঁরাও, বয়স মাত্র তিন বছর। শুক্রবার সন্ধ্যায় সে বাড়ির উঠোনে খেলা করছিল, পরিবারের সদস্যরা অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ করেই শিশুটি উঠোন থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি ওঁৎ পেতে থাকা চিতাবাঘ আচমকাই শিশুটির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং মুখে করে তাকে তুলে নিয়ে বাগানের গভীরে চলে যায়।
ঘটনার পরই এলাকাবাসী শিশুটির খোঁজে তল্লাশি শুরু করেন। কিছুক্ষণ পরেই চা বাগানের ১৮ নম্বর সেকশন থেকে আয়ূষের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। তার সারা শরীরে গভীর ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে, যা চিতাবাঘের হামলার প্রমাণ।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। কিন্তু তাঁদের ঘিরে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও বন দফতর চা বাগান সংলগ্ন বসতিপাড়াগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
উল্লেখ্য, গত দু’মাসের মধ্যে এই কলাবাড়ি এলাকা থেকেই বন দফতর তিনটি চিতাবাঘকে ধরে খাঁচাবন্দি করেছে। তবুও চিতাবাঘের হামলা বন্ধ হয়নি। এখনও কয়েকটি জায়গায় ফাঁদ পাতা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০১৯ এবং ২০২৪ সালেও একইভাবে চিতাবাঘ শিশুদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল। তাদের দাবি, প্রতি বছরই এমন ঘটনা ঘটছে, অথচ প্রশাসনের তরফে কোনও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে না। চিতাবাঘের হামলার আতঙ্কে ইতিমধ্যেই অনেক চা বাগানে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। দিন যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ। এই ঘটনা আবারও ডুয়ার্সের বনাঞ্চল সংলগ্ন জনবসতিগুলিতে বন্যপ্রাণীর হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরল।