রোজ় ভ্যালির কমিটি নিয়ে ED-রিপোর্টে বিরক্ত হাইকোর্ট, প্রশ্নে এবার কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক

বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা রোজ ভ্যালির বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর জমা দেওয়া রিপোর্টে চরম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ ইডি-র রিপোর্ট ফেরত দিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, আদালতের প্রশ্নগুলির সুস্পষ্ট জবাব দিতে ইডি-কে আরও একটি সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে, এই মামলার শুনানি এবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চে স্থানান্তরিত হওয়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আদালত ইডি-র কাছে জানতে চেয়েছে, কীভাবে বাইরের একটি গ্রুপকে এই ব্যবসায় যুক্ত করা হলো। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে বিচারপতি দিলীপ শেঠের নেতৃত্বাধীন কমিটির ভূমিকা নিয়ে। হাইকোর্ট নিযুক্ত এই কমিটি কীভাবে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর বদলে তা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করল?
এছাড়াও, হাইকোর্ট জানতে চেয়েছে, হাইকোর্ট নিযুক্ত একটি কমিটি কীভাবে অডিট ছাড়া চলছে এবং সেই কমিটিতে ইডি-র প্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও তারা কীভাবে এই অনিয়ম চলতে দিল?
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রেস নোট ঘিরে বিতর্ক:
এই আবহে কেন্দ্রীয় সরকারের গত ১২ এপ্রিলের একটি প্রেস নোট নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রেস নোট ও ছবি দিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের বার্তায় বলা হয়েছে, রোজ ভ্যালির বাজেয়াপ্ত ৫১৫ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিলীপ শেঠের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে ইডি-র অধিকর্তা রাহুল নবীনও উপস্থিত ছিলেন। যে শেঠ কমিটি নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলছে এবং অনৈতিক কাজের অভিযোগ উঠছে, সেখানে কেন্দ্রীয় সরকার কীভাবে ইডি-র বাজেয়াপ্ত করা টাকা এই কমিটির হাতে তুলে দিল, তা নিয়ে প্রতারিত আমানতকারীরাও প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রতারিতদের আইনজীবীদের প্রশ্ন, “কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী যে কমিটির নেতৃত্বকে ডেকে ইডি-র অধিকর্তাকে সামনে রেখে টাকা দিয়ে তা প্রচার করছেন, সেই কমিটির বিরুদ্ধে কি ইডি-র পক্ষে কোনো রকম নেতিবাচক রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব?” ফলে হাইকোর্ট ফের তলব করলেও ইডি কতটা সঠিক জবাব দেবে, তা নিয়ে আমানতকারীদের আইনজীবীরা সন্দিহান।
বিচারপতি মান্থার বেঞ্চে মামলা স্থানান্তর নিয়ে প্রশ্ন:
এই নাটকীয় মোড়ের মধ্যেই বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার মামলা শোনার দায়িত্ব বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের বদলে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চকে দিয়েছে হাইকোর্ট। উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেই বিচারপতি মান্থা কেন্দ্রীয় এজেন্সির আইনজীবী হিসেবে সওয়াল করতেন বলে এই মামলার বিচার করা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এখন ফের তাঁকে কেন এই দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনা মামলার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
সব মিলিয়ে, রোজ ভ্যালি মামলায় হাইকোর্টের কড়া অবস্থান এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সেই সঙ্গে মামলার বেঞ্চ পরিবর্তন – এসবই এই বহুল চর্চিত মামলার ভবিষ্যৎকে এক নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।