“খুনিরা গোপনে RSS-এর ছদ্মবেশে ঘুরছে”-কটাক্ষ TMC বিধায়কের, পাল্টা জবাব BJP-র

আর মাত্র তিন দিন পরেই ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের মেগা ইভেন্ট – ২১শে জুলাইয়ের শহীদ দিবস সমাবেশ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মঞ্চ থেকে কী বার্তা দেন, সেদিকে যখন সকলের নজর, ঠিক তখনই বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় তৃণমূল বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের কর্মসূচি থেকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)-কে নিশানা করে বিধায়কের ‘খুনি’ মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি।
মিছিল থেকে বিধায়কের আক্রমণ:
শুক্রবার সকালে বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা বড়জোড়া বাজার এলাকা পরিক্রমা করে চৌরাস্তায় এসে জড়ো হন। সেখানেই এক মঞ্চ থেকে দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন বড়জোড়ার তৃণমূল বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায়। আর সেই মঞ্চ থেকেই আরএসএস-কে বিঁধে তিনি বলেন, “খুনিরা গোপনে আরএসএস-এর ছদ্মবেশে এলাকায় ঘোরাঘুরি করছে। আমাদের পাড়ায়, বুথে বুথে নজর রাখতে হবে। এলাকায় অচেনা কোনও মুখ দেখলেই থানায় খবর দেবেন।” বিধায়কের এই মন্তব্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দেয়।
কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা:
আরএসএস-কে আক্রমণের পাশাপাশি বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারকেও নিশানা করেন। তিনি বলেন, “যতই সিবিআই, ইডি লাগিয়ে রাখুক, মানুষ কিন্তু উপনির্বাচনে মমতা ও অভিষেকের ছবি দেখেই তৃণমূলকে ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে জেতাচ্ছে। আমরা আগামীদিনে ঐক্যবদ্ধভাবে তৃণমূলকে জেতানো।” তিনি আরও যোগ করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা নির্দেশ দেবেন, তাই করব। বিজেপি চাইছে যে কোনও উপায়ে তৃণমূলের জেতা কেন্দ্রগুলি দখল করতে। তাই কখনও সিবিআই, ইডি আবার কখনও আরএসএস-এর মুখোশধারী কিছু লোক এনে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। মানুষকে বলছে, যদি বিজেপিকে ভোট না দাও, তাহলে বাংলা শেষ হয়ে যাবে।”
বিজেপির পাল্টা জবাব:
তৃণমূল বিধায়কের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে বিজেপি। বড়জোড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিজেপি নেতা গোবিন্দ ঘোষ পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন, “বড়জোড়ার তৃণমূল বিধায়ক খিচুড়ি বিলি ও মেলাতেই ব্যস্ত থাকেন। উনি আরএসএস সম্পর্কে কী জানেন? ১৫ বছরের রাজত্বে তোলামূল সরকার চলছে। আরএসএস সম্পর্কে বিধায়কের এই মন্তব্যকে আমি তীব্র ধিক্কার জানাই।”
২১শে জুলাইয়ের আগে যখন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে, তখন বাঁকুড়ার এই ঘটনা তৃণমূল ও আরএসএস-বিজেপির মধ্যে নতুন করে তিক্ততা সৃষ্টি করেছে। এই মন্তব্য আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।