ফের আঘাত! BLA-এর জোড়া হামলায় ২৯ পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু

সময় যত গড়াচ্ছে, বেলুচিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত ততই রক্তক্ষয়ী রূপ নিচ্ছে। স্বাধীনতাকামী বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA) সম্প্রতি কালাত ও কোয়েটায় দুটি বড়সড় হামলা চালিয়ে ২৯ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করার দাবি করেছে। এই হামলার পর বিএলএ এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে যে, বেলুচিস্তান স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত তারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।
কোয়েটায় আইইডি হামলা: ফাতাহ স্কোয়াডের সাফল্য:
বিএলএ-এর জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোয়েটায় তাদের বিশেষ ইউনিট ‘ফাতাহ স্কোয়াড’ পাকিস্তানি সেনাদের বহনকারী একটি বাসকে অত্যাধুনিক ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করেছে। বিএলএ-এর দাবি, তাদের ইউনিট ‘জিরাব’ থেকে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলা চালানো হয়। জিরাব ইউনিট করাচি থেকে কোয়েটাগামী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বাসটির উপর নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছিল।
এই বাসে কাওয়ালি গায়করাও ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে বিএলএ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, কাওয়ালি গায়কদের লক্ষ্যবস্তু করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না, তাই তাদের কোনো ক্ষতি করা হয়নি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে বিএলএ তাদের লক্ষ্যবস্তু এবং বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
ক্রমবর্ধমান হামলার ধারা:
বিএলএ এর আগেও বহুবার পাকিস্তানে আক্রমণ চালিয়েছে। সম্প্রতি তারা কোয়েটার হাজারি গঞ্জি এলাকায় আইইডি দিয়ে হামলা চালিয়ে দুই পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করে। সেই হামলায়ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
আগের আরও একটি বড় ঘটনায়, গত ১১ই মার্চ বালুচ সেনারা কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী ‘জাফর এক্সপ্রেস’ ট্রেনে হামলা চালায়। সেই ট্রেনে প্রায় ৪৪০ জন যাত্রী ছিলেন এবং হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। এই ধারাবাহিক হামলাগুলো বেলুচিস্তানে স্বাধীনতার দাবির তীব্রতা এবং বিএলএ-এর সামরিক সক্ষমতাকে তুলে ধরছে।
স্বাধীনতার দাবিতে অটল বিএলএ:
বালুচদের বহুদিনের দাবি হলো, পাকিস্তান জোর করে তাদের এলাকা দখল করে রেখেছে। তারা নিজেদের ভূমি এবং সম্পদের উপর সম্পূর্ণ অধিকার ও স্বাধীনতা চায়। বিএলএ-এর বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, তারা পাক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে এবং বেলুচিস্তান স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানকে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।
এই ঘটনাগুলির পরও পাকিস্তান সরকার বা সেনা এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার আন্দোলন যে নতুন করে গতি লাভ করছে, তা এই হামলাগুলো থেকেই স্পষ্ট।