তৃণমূলের অন্দরে ফের ফাটল! ১৫ অগস্টের পর চুপ নয়, ‘অলআউট’ লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি হুমায়ুন কবিরের

২১শে জুলাইয়ের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই তৃণমূলের অন্দরে ফের ফুঁসে উঠল অসন্তোষ। এবার প্রকাশ্যেই দলের জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুর্শিদাবাদের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আজ সালারে ২১শে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা থেকে তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আর চুপ থাকব না। ১৫ অগস্ট পর্যন্ত ধৈর্য ধরব, তারপর ‘অলআউট’ লড়াই শুরু করব।” তাঁর এই মন্তব্য জেলা রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
নিজেকে ‘টার্গেট’ করার অভিযোগ
হুমায়ুন কবীর সভার মঞ্চ থেকে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “আমি অন্যায় করিনি, অন্যায়ের সঙ্গে কম্প্রোমাইজও করিনি। আজ এখানে দাঁড়িয়ে ফের বলছি, আমার নামটা নেত্রী (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ঘোষণা করেছিলেন। তারপরও বহু প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে লড়াই করে এই জায়গায় এসেছি। আজও সেই লড়াই চলছে। আর এবার আমি তৈরি।”
নিজের বিধানসভা কেন্দ্রকে নিশানা করার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “আমার বিধানসভা থেকেই ব্লক সভাপতিদের তুলে নিয়ে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে কথা বলানো হচ্ছে। ১৬টা ব্লক, ১৩টা বিধানসভা, কোথাও কিছু হচ্ছে না, শুধু আমাকেই টার্গেট করা হচ্ছে!”
“গর্ত খুঁজেও পাবেন না”: হুমকির সুর বিধায়কের
জেলা নেতৃত্বের প্রতি তাঁর ক্ষোভ এতটাই তীব্র যে, হুমায়ুন কবীর সরাসরি হুমকির সুরেই বলেন, “কিছু নেতা অন্যায়কে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। যেদিন লাগব, গর্তও খুঁজে পাবে না লুকোতে। মুখে না বললেও, জেলার নেতৃত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছে, কে থাকবেন, কে বাদ যাবেন। এটা আর সহ্য করব না।”
তিনি আরও বলেন, “জেলায় যদি কেউ বিরোধীদের অক্সিজেন দেয়, আমিও কিন্তু জানি কোথায় কাটা যাবে! আমি প্রস্তুত। এবার মুখ খুলব, আর চুপ করে থাকব না।” তাঁর এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য তৃণমূলের জেলা স্তরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে ফের প্রকাশ্যে আনল।
রাজ্যজুড়ে জল্পনা, অস্বস্তিতে দল?
যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ২১শে জুলাইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই জেলায় জেলায় সংগঠনের ভিতরে এই ধরনের ফাটল দলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যেমন আলু চাষীদের ব্যাপক ক্ষতির খবর আসছে, তেমনই দলের অভ্যন্তরের এই বিবাদ তৃণমূলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করল। হুমায়ুন কবীরের এই ‘অলআউট’ লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি আগামী দিনে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।