ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী সংঘর্ষে শহিদ সিআরপিএফ জওয়ান, গুলির লড়াইয়ে নিকেশ ২ মাওবাদীও

দেশের মাওবাদমুক্ত করার কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্যের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তাল ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলা। বুধবার ভোরে বোকারোর গোমিয়া থানা এলাকার বিরহোরডেরা জঙ্গলে সিআরপিএফের কোবরা ব্যাটেলিয়নের সঙ্গে মাওবাদীদের ভয়াবহ গুলির লড়াই হয়। এই সংঘর্ষে কোবরা ব্যাটেলিয়নের এক জওয়ান শহিদ হয়েছেন এবং একই ঘটনায় দুই মাওবাদী নিহত হয়েছে।

ভোররাতে গুলির লড়াই, শহিদ জওয়ান
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এদিন ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। মাওবাদীদের গতিবিধি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী বিরহোরডেরা জঙ্গলে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল। অভিযান চলাকালীনই অতর্কিতে মাওবাদীরা বাহিনীর উপর গুলি চালাতে শুরু করে, যার তীব্র জবাব দেয় সিআরপিএফ জওয়ানরা।

বোকারো রেঞ্জের আইজি ক্রান্তি কুমার গাডিদেসি এই গুলি-সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এনকাউন্টারে দুই মাওবাদী নিকেশ হয়েছে। আমাদের কোবরা ব্যাটেলিয়নের এক জওয়ান শহিদ হয়েছেন।” তিনি শহিদ জওয়ানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

জঙ্গলে জোরদার তল্লাশি অভিযান
সংঘর্ষের পর বোকারো জেলা পুলিশ সুপার হরবিন্দর সিং জানিয়েছেন, গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, জঙ্গলে আরও মাওবাদী লুকিয়ে থাকতে পারে। সেই আশঙ্কায় কোবরা ব্যাটেলিয়ন-সহ রাজ্য পুলিশ ও সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং আগের থেকে বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে। জঙ্গলের প্রতিটি ইঞ্চি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মাওবাদমুক্ত ভারত গড়ার অঙ্গীকার
উল্লেখ্য, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ভারতকে সম্পূর্ণ মাওবাদমুক্ত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেই লক্ষ্যেই ছত্তীসগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড-সহ একাধিক রাজ্যে চলছে লাগাতার মাওবিরোধী অভিযান।

বিগত কয়েক মাসে এই রাজ্যগুলিতে টানা অভিযানের ফলে ইতিমধ্যে কয়েকশো মাওবাদী নেতা এবং শীর্ষ নেতাকে নিকেশ করতে সক্ষম হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। পাশাপাশি, একাধিক নেতা আত্মসমর্পণও করেছে। ঝাড়খণ্ডের এই ঘটনা মাওবাদ-বিরোধী অভিযানে আরও গতি আনবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। শহিদ জওয়ানের আত্মত্যাগ মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও তীব্র করবে বলেই বিশ্বাস।