নিখোঁজ পশু চিকিৎসকের পচাগলা দেহ উদ্ধার ঘিরে রহস্য! কোনো গভীর ষড়যন্ত্র?

প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যের খোঁজে বেরিয়েছিলেন প্রতিদিনের মতোই। কিন্তু আর ফেরা হলো না। তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর শিলিগুড়ি সংলগ্ন বৈকুন্ঠপুর ফরেস্ট ডিভিশনের রাজফাপরি জঙ্গল থেকে উদ্ধার হলো পশু চিকিৎসক লেন্দুপ ভুটিয়ার (Lhendup Bhutia) পচাগলা দেহ। মঙ্গলবার বিকেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে নিছকই দুর্ঘটনার শিকার হলেন তিনি, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র?
এক রহস্যময় নিখোঁজ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই, শনিবার, প্রতিদিনের মতোই প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন সালুগাড়ার বাসিন্দা লেন্দুপ ভুটিয়া। পেশায় পশু চিকিৎসক লেন্দুপ মূলত কোচবিহারে প্র্যাকটিস করলেও সপরিবারে শিলিগুড়ি সংলগ্ন শালুগাড়াতে একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। তিনি প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বেরোতেন, কিন্তু সেদিন সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও আর বাড়ি ফেরেননি। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে এবং দ্রুত ভক্তিনগর থানায় একটি নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করে।
জঙ্গল থেকে উদ্ধার পচাগলা দেহ
মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় চার যুবক রাজফাপরির জঙ্গলে একটি পচাগলা দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভক্তিনগর থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে ডাকা হয় পশু চিকিৎসকের পরিবারকে। দেহের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, প্রাথমিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা পুলিশের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে পরিবারের সদস্যরা, বিশেষত লেন্দুপ ভুটিয়ার মা কাদিম ছিরিং ভুটিয়া, উদ্ধার হওয়া দেহটি লেন্দুপের বলেই দাবি করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ বর্মণ জানান, “জঙ্গলে চারটি ছেলে একটি দেহ দেখতে পেয়ে খবর দেয়। পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে। তবে দেহটি পচে যাওয়ায় তা চেনা সম্ভব হয়নি।”
ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার অপেক্ষা
উদ্ধার হওয়া দেহটি বুধবার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগে ময়নাতদন্ত করা হবে। এরপরই দেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তবে, দেহের পরিচয় এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে ডিসিপি রাকেশ সিং (পূর্ব) জানিয়েছেন, “ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এটি নিছক দুর্ঘটনা, না কি এর পিছনে কোনো ষড়ষন্ত্র বা অপরাধমূলক ঘটনা লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
শোকাহত পরিবারের জিজ্ঞাসা
নিখোঁজ চিকিৎসকের মা কাদিম ছিরিং ভুটিয়া শোকে পাথর। তিনি বলেন, “পরিবারে কোনো সমস্যা ছিল না। কারোর সঙ্গে কোনো বিবাদ ছিল না। তবে কিছুদিন ধরে কোনো মানসিক চিন্তায় ছিল। কী করে এইসব ঘটল ধারণা নেই। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।” তাঁর এই বক্তব্যে লেন্দুপের মানসিক অবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, এই মর্মান্তিক পরিণতির পেছনে আসল কারণ কী, তা এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা। এই রহস্যের জট খুলতে পুলিশের নিবিড় তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে শোকাহত পরিবার এবং এলাকার সাধারণ মানুষ।