আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা! ২৬০ জনের মৃত্যু ঘিরে দিশেহারা দেশ, বোয়িং বিমানগুলিতে DGCA-র কড়া নির্দেশ

আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কয়েক মুহূর্ত পরই এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্থানীয় একটি মেডিকেল কলেজ ভবনের উপর আছড়ে পড়ে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানিসহ ২৬০ জন যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের দেহ এতটাই পুড়ে কয়লার মতো হয়ে গিয়েছিল যে, তাদের শনাক্ত করা যায়নি। এই মর্মান্তিক ঘটনা ভারত সহ সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ব্ল্যাক বক্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য: জ্বালানি বন্ধের রহস্য
দুর্ঘটনার পর মেডিকেল কলেজ ভবনের ছাদ থেকে বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য— বিমানের দুটি ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল! কেবিনের ভয়েস রেকর্ডারে একজন পাইলটকে অন্যজনকে হতবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করতে শোনা যায়, “কেন জ্বালানি বন্ধ করলেন?” অপর পাইলটের উত্তর ছিল, “আমি বন্ধ করিনি।”

এই বিস্ময়কর তথ্য জানার পর পাইলট “মে ডে, মে ডে” বলে বিমান নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জরুরি বার্তা পাঠান। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই, উত্তর আসার আগেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার এই প্রাথমিক বিবরণ স্তম্ভিত করে দিয়েছে গোটা দেশকে।

DGCA-র জরুরি নির্দেশ: ২১শে জুলাইয়ের মধ্যে লকিং মেকানিজম পরীক্ষা
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, ভারতীয় বিমান পরিবহন অধিদপ্তর (DGCA) দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা বোয়িং বিমান পরিচালনাকারী সমস্ত বিমান সংস্থাকে আগামী ২১শে জুলাইয়ের মধ্যে বিমানের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচের লকিং মেকানিজম পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে।

DGCA-এর এই নির্দেশ বোয়িং ৭১৭, ৭৩৭, ৭৪৭, ৭৫৭, ৭৬৭, ৭৮৭ এবং ম্যাকডোনাল্ড ডগলাস এমডি-১১, এমডি-৯০ সহ বেশ কয়েকটি বোয়িং এবং ম্যাকডোনাল্ড ডগলাস বিমান মডেলের জন্য প্রযোজ্য। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) কিছু বিমান মডেলে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচের লকিং মেকানিজম আলগা হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করেছিল।

বর্তমানে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় বিমান সংস্থা ইতিমধ্যেই এই পরীক্ষা শুরু করেছে। DGCA নির্দেশ দিয়েছে যে, এই পরীক্ষা শেষ করে ২১শে জুলাইয়ের মধ্যে তাদের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

এই দুর্ঘটনা ভারতের বিমান সুরক্ষায় এক বড় প্রশ্ন চিহ্ন এঁকে দিয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে DGCA-এর এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। গোটা দেশ এই দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের চিহ্নিতকরণের অপেক্ষায়।