নেহাতই ভুল, নাকি যান্ত্রিক গোলযোগ? প্রকাশ্যে বিমান দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে দুই পাইলটের হাড়হিম কথোপকথন

আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করল এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। ১৫ পাতার এই রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অন্তর্ঘাত বা পাখির ধাক্কার সম্ভাবনা। বরং ইঙ্গিত মিলেছে, যান্ত্রিক গোলযোগই হতে পারে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মূল কারণ।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিমান ওড়ার পর যখন তা উচ্চতা অর্জনের চেষ্টা করছিল, তখন হঠাৎ করেই দু’টি ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। AAIB-এর ভাষায়, জ্বালানি সুইচগুলি ‘RUN’ (চালু) অবস্থা থেকে ‘CUTOFF’ (বন্ধ) মোডে চলে যায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে। ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যায় এবং বিমানটি উচ্চতা হারাতে থাকে।
ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে ধরা পড়েছে শেষ মুহূর্তে পাইলটদের মধ্যে হওয়া কথোপকথন। এক পাইলট বিস্মিত হয়ে বলেন,“জ্বালানি বন্ধ করে দিলে কেন?”
জবাবে অপর পাইলট জানান,“আমি কিছুই করিনি।”এই সংলাপ থেকেই বোঝা যায়, পরিস্থিতি কতটা অপ্রত্যাশিত ও বিভ্রান্তিকর ছিল।
পাইলটরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করেন। ‘কাটঅফ’ হওয়া জ্বালানির সুইচ ফের ‘রান’ অবস্থায় আনার চেষ্টা করেন। যদিও এক ইঞ্জিন চালু হলেও অপরটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিমান পর্যাপ্ত ‘থ্রাস্ট’ না পেয়ে নিচের দিকে নেমে যেতে থাকে। এরপরই পাইলটরা ‘Mayday’ কল পাঠান। কিন্তু সময়ের সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানে অভিশপ্ত বিমানটি।
দুর্ঘটনার পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন সুমিত সভরওয়াল, যাঁর ৮২০০ ঘণ্টারও বেশি উড়ানের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সহকারী পাইলট ক্লাইভ কুন্দররও ১১০০ ঘণ্টার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। এমন অভিজ্ঞ দুই পাইলট ভুল করে জ্বালানি বন্ধ করে দেন—এমন সম্ভাবনা কার্যত অস্বাভাবিক বলেই মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই যান্ত্রিক ত্রুটির দিকেই নজর দিচ্ছেন তদন্তকারীরা।
প্রাথমিক রিপোর্টে বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে কোনও ত্রুটি বা গাফিলতির উল্লেখ নেই। সংস্থাকে এখনও পর্যন্ত কোনও নোটিসও পাঠানো হয়নি। তবে, চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট না-আসা পর্যন্ত যান্ত্রিক গোলযোগের তত্ত্ব একেবারে উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।