ইতিহাসের পর রাষ্ট্রবিজ্ঞান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন দেখে অবাক পড়ুয়ারা, বাতিল হলো পরীক্ষা

ইতিহাসের পর এবার রাষ্ট্রবিজ্ঞান। স্নাতক স্তরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে ফের বিতর্কের মুখে পড়ল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়। শুক্রবার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের তৃতীয় বর্ষের ষষ্ঠ সেমিস্টারের একটি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাতিল হওয়া পরীক্ষার নতুন তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের ‘Women Power and Politics’ অপশনের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই মাথায় হাত পড়ে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের। তাদের অভিযোগ, এই অপশনের প্রতিটি প্রশ্নই সিলেবাসের বাইরে থেকে এসেছে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, সমস্ত প্রশ্নই ‘Citizenship in a Globalizing World’ নামক অন্য একটি অপশন থেকে করা হয়েছে।

চন্দ্রকোণা রোড গৌরব গুইন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বিনোদ চন্দ্র সরেন জানান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের একটি পেপারে দু’টি ‘অপশন’ থাকে – ‘সিটিজেনশিপ ইন আ গ্লোবালাইজিং ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘উইম্যান পাওয়ার অ্যান্ড পলিটিক্স’। এই দুটির মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বেশিরভাগ কলেজের শিক্ষার্থীরাই ‘ওম্যান পাওয়ার অ্যান্ড পলিটিক্স’ অপশনটি বেছে নেন।

অধ্যাপক সরেন বলেন, “ওম্যান পাওয়ার অ্যান্ড পলিটিক্স অপশনের সমস্ত প্রশ্নই এসেছে অন্য অপশন অর্থাৎ সিটিজেনশিপ ইন আ গ্লোবালাইজিং ওয়ার্ল্ড থেকে। মোট ৬০ নম্বরের এই পরীক্ষার একটি প্রশ্নও এই অপশনের নয়।” এই কারণেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের তৃতীয় বর্ষের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের আজকের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার বিপ্লব চক্রবর্তী পরীক্ষা বাতিলের নোটিস দেন। তিনি জানান, “শুধুমাত্র ওই অপশনের পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়েছে। ওই অপশনের পরীক্ষা আগামী ১৫ জুলাই (সকাল ১০টা – দুপুর ১টা) অনুষ্ঠিত হবে।”

উল্লেখ্য, এর মাত্র দু’দিন আগেই বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রশ্নপত্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই প্রশ্নে বিপ্লবীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে আখ্যা দেওয়ায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। সেই ঘটনার জেরে ইউজি বোর্ড অফ স্টাডিজের চেয়ারম্যান এবং মডারেশন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরপর দুটি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত বিতর্কের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পদ্ধতি এবং প্রশ্ন তৈরির মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্নপত্র বিতর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী’ বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।

এই ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।