মায়ের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করতে আপত্তি, তুমুল ঝগড়া ও অভিমানে আত্মহত্যা ছাত্রীর?

ঝাড়গ্রাম শহরের রঘুনাথপুর এলাকায় বন্ধ ঘরের ভিতর থেকে তুলসী দিদার (১৮) নামে এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার পর ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঝাড়গ্রাম শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুরের একটি মাটির চালা বাড়িতে মা কাজল দিদারের সঙ্গে থাকতেন তুলসী। তুলসীর মা পরিচারিকার কাজ করেন এবং তুলসী ঝাড়গ্রাম শহরের একটি স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

মৃতের মা কাজল দিদার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে তুলসীর সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হয়। কাজল বলেন, “মেয়ের ১৮ বছর হয়েছে। তাই ওর বিয়ে দেওয়ার জন্য একটা ছেলে দেখেছিলাম। তাঁদের সঙ্গে বিয়ের কথাবার্তাও চলছিল। বৃহস্পতিবার জানতে পারি আমার মেয়ে অন্য ছেলের সঙ্গে প্রেম করছে। এই নিয়ে রাতে ওর সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়।”

কাজল দিদার জানান, ঝগড়ার পর তুলসী রাগ করে প্রতিবেশীর বাড়িতে চলে যায় এবং সারারাত সেখানেই ছিল। শুক্রবার সকালে কাজল যখন কাজে বেরোচ্ছিলেন, তখনও তুলসী বাড়ি ফেরেনি। তাই তিনি বাড়ির দরজায় তালা লাগিয়ে কাজে বেরিয়ে যান।

দেহ উদ্ধার ও পুলিশি তদন্ত
কাজল দিদার কাজ থেকে বাড়ি ফিরে এসে তালা খুলে ঘরে ঢোকেন। ঘরে ঢুকেই তিনি দেখেন, গলায় গামছার ফাঁস লাগানো অবস্থায় তুলসী ঝুলছে। মেয়ের এমন অবস্থা দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। কাজলের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তারাই ঝাড়গ্রাম থানায় খবর দেন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। পুলিশ তুলসীর দেহ উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় ময়নাতদন্তের জন্য। কাজলের বক্তব্য অনুযায়ী, তুলসী সম্ভবত বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকেছিল।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক অশান্তির কারণেই তুলসী গলায় গামছার ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চালাচ্ছে।