বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্র কেলেঙ্কারি, বিপ্লবীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’র পর রাষ্ট্রবিজ্ঞানেও বিতর্ক, বাতিল পরীক্ষা

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। ইতিহাসের প্রশ্নপত্রে বীর বিপ্লবীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা দেওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ষষ্ঠ সেমিস্টারের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, যার ফলে চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী। এই ঘটনাকে শিক্ষাবিদ চিন্ময় গুহ বর্ণনা করেছেন, “মনে হচ্ছে ব্রিটিশ প্রশ্ন কর্তারা প্রশ্ন করেছে স্বাধীনতার আগে।”
বারবার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি:
এই ধরনের প্রশ্নপত্র বিতর্ক বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন নয়। এর আগেও ক্লাস এইটের একটি পাঠ্যবইয়ে ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ’ শীর্ষক অধ্যায়ে বাংলার বীর সন্তান ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকী সহ বিনয়-বাদল-দীনেশের মতো বিপ্লবীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই ঘটনাকে ঘিরে বিধানসভায় তুমুল তর্ক-বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিধানসভায় দাঁড়িয়ে নিজের ভুল স্বীকার করেছিলেন। ছয় বছর পর ফের সেই একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে শিক্ষামহল ও ওয়াকিবহাল মহলে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে নতুন বিতর্ক:
এবার ইতিহাসের প্রশ্নের রেশ কাটতে না কাটতেই বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্র নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ষষ্ঠ সেমিস্টারের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই তা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন আসায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তারা। পরীক্ষা শেষের আগেই পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন। অনেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পরীক্ষা দিতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন।
শিক্ষাবিদ এবং ছাত্র সংগঠনগুলি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়া কতটা ত্রুটিমুক্ত? বারবার কেন এই ধরনের ভুল হচ্ছে? এর পেছনে কি কোনও গাফিলতি বা অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে? এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।
বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র বিতর্ক কেবল শিক্ষার্থীদের হয়রানি নয়, বরং রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার মান এবং প্রশ্নপত্র তৈরির পদ্ধতি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এর দ্রুত সমাধান না হলে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হবে বলেই মনে করছে শিক্ষামহল।