“ওষুধের প্যাকেটে ব্রেইল ও ভয়েস-এনেবেলড QR কোড”-যুগান্তকারী পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র সরকার!

দেশের দৃষ্টিহীন নাগরিকদের জন্য ওষুধের তথ্য সহজলভ্য করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজ়েশন (CDSCO)। ওষুধের প্যাকেটে থাকা লিফলেটে ব্রেইল হরফ ছাপা এবং QR কোডকে ভয়েস-এনেবেলড করে তোলার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিডিএসসিও মনে করছে, এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অসম্ভব নয় এবং অচিরেই এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে বেশি চলে এমন প্রায় শ’তিনেক ‘ফাস্ট মুভিং ব্র্যান্ডস’ বা চালু ওষুধের প্যাকেজিংয়ে জাল রুখতে QR কোড থাকে। ক্রেতারা এই কোড স্ক্যান করে ওষুধের তথ্য যাচাই করতে পারেন। কিন্তু দৃষ্টিহীন ক্রেতারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এছাড়াও, ওষুধ সম্পর্কে যাবতীয় বিবরণ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ব্যবহারবিধি লেখা থাকে যে লিফলেটে, তা-ও তাঁরা দেখতে পান না। ফলে, তাঁরা ওষুধ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারেন না, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

এই সমস্যা সমাধানের জন্যই এবার দৃষ্টিহীনদের সুবিধার্থে ব্রেইল কার্ড ছাপা এবং ভয়েস-এনেবেলড QR কোডের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এর ফলে একজন দৃষ্টিহীন ব্যক্তি সহজেই ওষুধের সমস্ত বিবরণ শুনতে পারবেন বা ব্রেইল হরফের মাধ্যমে পড়তে পারবেন।

এই বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি সিডিএসসিও-র অধীন ড্রাগস কনসাল্টেটিভ কমিটি (DCC)-তে বিশদ আলোচনা হয়েছে। গত বছর কমিটির ৫৮তম বৈঠকে এ নিয়ে প্রথম আলোচনা শুরু হয়েছিল, এবং গত সপ্তাহে ৬৬তম বৈঠকে আরও গভীরভাবে এটি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই আলোচনার কার্যবিবরণী যত্ন সহকারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সেই মতো, ডিসিসি এই বিষয়টি সিডিএসসিও-র ড্রাগ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজ়রি বোর্ডের (DTAB) কাছে সুপারিশ আকারে পেশ করেছে।

সোমবার এই প্রস্তাবনার কথা সিডিএসসিও-র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে এবং জনসাধারণ ও সব ধরনের স্টেকহোল্ডারদের থেকে এ ব্যাপারে মতামত চাওয়া হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, কারণ জনসাধারণের মতামত এই প্রস্তাবনার চূড়ান্ত রূপ দিতে সাহায্য করবে।

বিষয়টি চূড়ান্ত হলে তা দ্রুত বাস্তবায়িত করার জন্য ডিসিসি-র অধীনে একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই সাব-কমিটির মূল লক্ষ্য হলো, চিহ্নিত তিনশোটি ফাস্ট মুভিং ব্র্যান্ডের মধ্যে যেগুলি ট্যাবলেট-ক্যাপসুলের প্যাকেট, সেগুলিকে দৃষ্টিহীনবান্ধব করে তোলা।

ডিসিসি ওই সাব-কমিটির জন্য মূলত দু’টি সুপারিশ রেখেছে, যা আগামী দিনে বাস্তবায়িত করতে হবে:
১. ট্যাবলেট-ক্যাপসুলের প্যাকেজিংয়ে ব্রেইল কার্ডে ওষুধের বিবরণী ছাপা।
২. এমন QR কোড ছাপা যা স্ক্যান করলে ওষুধ সম্পর্কে বিশদ তথ্য শুনতে পাবেন একজন দৃষ্টিহীন ক্রেতা।

ডিসিসি-র ৬৬তম বৈঠকে খোদ ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (DCGI) রাজীব সিং রঘুবংশী উপস্থিত ছিলেন। তিনিও বৈঠকে এই দুটি দৃষ্টিহীনবান্ধব পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। এ ব্যাপারে অবিলম্বে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ড্রাগ কন্ট্রোলকে চিঠি দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

এই উদ্যোগ যদি সফল হয়, তবে এটি দেশের দৃষ্টিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য এক বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে এবং ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাদের নির্ভরতা ও নিরাপত্তাহীনতা অনেকটাই কমিয়ে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *