যে পেট্রোল পাম্পেই যান না কেন, পাবেন না পেট্রোল-ডিজেল! ১ নভেম্বর থেকে জারি হচ্ছে নিয়ম

যে কোনও পেট্রোল পাম্পে ঢুকলেই মিলবে না পেট্রোল বা ডিজেল—হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে দিল্লি এবং আশপাশের পাঁচটি জেলায় শুরু হচ্ছে জ্বালানির নতুন নিয়ম। যার জেরে বহু গাড়ির মালিককে পড়তে হবে চরম সমস্যায়।
কাদের জন্য জ্বালানি বন্ধ?
👉 ডিজেলচালিত গাড়ি: যদি গাড়ির বয়স ১০ বছরের বেশি হয়, তাহলে আর মিলবে না ডিজেল।
👉 পেট্রোলচালিত গাড়ি: যদি বয়স ১৫ বছরের বেশি হয়, তবে পেট্রোলও নয়।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে দিল্লি, গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ, নয়ডা, গাজিয়াবাদ এবং সোনিপত-এ।
কেন নেওয়া হল এই সিদ্ধান্ত?
দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে দূষণের মাত্রা ভয়াবহ।
কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (CAQM) জানিয়েছে, পুরনো গাড়িগুলি পরিবেশে মারাত্মক ক্ষতিকর গ্যাস ছাড়ে। সেই কারণেই এই গাড়িগুলির জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মূলত, যেসব গাড়ি তাদের জীবনচক্র পেরিয়ে গিয়েছে, তাদের চালানো বা রাস্তায় রাখা নিষিদ্ধ বলেই মানছে কমিশন।
গাড়ির মালিকদের কী করতে হবে?
CAQM ও সংশ্লিষ্ট RTO অফিস থেকে ইতিমধ্যেই ২ লক্ষেরও বেশি গাড়ির মালিককে নোটিস পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী:
✅ গাড়ি সারেন্ডার করতে হবে
অথবা
✅ অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য No Objection Certificate (NOC) নিতে হবে
❗ নিয়ম না মানলে লাগতে পারে মোটর ভেহিকল অ্যাক্ট অনুযায়ী জরিমানা, এমনকি গাড়ি বাজেয়াপ্তও হতে পারে।
পেট্রোল পাম্পে গাড়ির বয়স কীভাবে ধরা পড়বে?
পেট্রোল পাম্পে বসানো হচ্ছে উন্নত ক্যামেরা ও স্ক্যানিং প্রযুক্তি।
➡️ এই ক্যামেরা গাড়ির নম্বর প্লেট স্ক্যান করবে
➡️ সঙ্গে সঙ্গে সিস্টেম জানিয়ে দেবে গাড়ির বয়স
➡️ বয়সসীমা পার হলে জ্বালানি দেওয়া হবে না
প্রথমে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল…
প্রথমে ঠিক হয়েছিল এই নিয়ম ১ জুলাই ২০২৪ থেকেই চালু হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া এবং প্রস্তুতির অভাবের কারণে তা স্থগিত রাখা হয়। অবশেষে আগামী ১ নভেম্বর থেকে নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে।
✅ সতর্ক হোন এখনই!
যদি আপনার গাড়ি এই নিয়মের আওতায় পড়ে, এখনই পরিকল্পনা করে ফেলুন—
✅ স্ক্র্যাপিং,
✅ NOC সংগ্রহ,
অথবা
✅ নতুন পরিবহন ব্যবস্থা খুঁজে নেওয়া
আগাম প্রস্তুতি না নিলে ১ নভেম্বরের পর পেট্রোল পাম্পে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হতে পারে।
🔁 পরিবেশবান্ধব গাড়ির দিকে এগোনোর সময়
এই পদক্ষেপ পরিবেশ রক্ষায় বড়সড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে এটি সাধারণ মানুষের চেতনা জাগানোরও বার্তা, যেন আগামীতে আরও বেশি করে ইলেকট্রিক ও কম দূষণকারী যানবাহনের দিকে ঝোঁকে দেশ।
পরিবেশ ও স্বাস্থ্য—দুটোই বাঁচাতে চাইলে এখন থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি।