SSC-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না কারা? স্পষ্ট ভাষায় ফের জানালো হাইকোর্টে

শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের জট কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন হাজার হাজার যোগ্য চাকরিপ্রার্থী। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আজ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এসএসসি (School Service Commission) দুর্নীতিতে ‘দাগী’ বা চিহ্নিত অযোগ্য প্রার্থীরা নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ই বহাল রাখল বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ। এই রায়ের ফলে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি আরও জোরদার হল।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন নবগঠিত এসএসসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ‘দাগী’দেরও আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মোট ৯টি মামলা দায়ের করা হয়। সিঙ্গল বেঞ্চে মামলার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, “কতবার তাঁরা ফল ভুগবে, সাজা পাবে?” যার উত্তরে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, “তাঁরা প্রতারণা করে চাকরি পেয়েছে তাই তাঁরা বাদ যাবে।” এরপরই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চিহ্নিত ‘দাগী’রা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না এবং যদি ইতিমধ্যেই কেউ আবেদন করে থাকেন, তবে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।

সিঙ্গল বেঞ্চের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার ও এসএসসি ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়। ডিভিশন বেঞ্চেও এসএসসি এবং সরকারকে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বিচারপতিরা জানতে চান, কেন এসএসসি ‘দাগী’দের পক্ষ নিচ্ছে?

এসএসসি-র আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্তি দেন যে, কারা নতুন নিয়োগে অংশ নিতে পারবেন আর কারা পারবেন না, তা নিয়ে একটি ধোঁয়াশা রয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, প্যানেল-বহির্ভূত, মেয়াদ-উত্তীর্ণ প্যানেল থেকে এবং সাদা খাতা জমা দিয়ে যারা চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদেরকেই কেবল ‘দাগী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কলকাতা হাইকোর্ট, যা সুপ্রিম কোর্টও মান্যতা দিয়েছে। এর বাইরে আর কাউকে ‘দাগী’ বলা হয়নি, তাই এই বিষয়ে স্পষ্টতা চেয়েই সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত শুনানিতে বলেন, ‘দাগী’ অযোগ্যদের নতুন নিয়োগে অংশ নিতে না দিলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন যে, ‘দাগী’দের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বসতে নিষেধ করা হয়েছে, এমন কোনও নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট কোথাও দেয়নি। সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে সকলের সমান অধিকার রয়েছে এবং তাই ‘দাগী’ অযোগ্যদের বসতে না দিলে মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করার সমান হবে।

তবে সমস্ত সওয়াল-জবাব শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশই বহাল রেখেছে। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ‘দাগী’ অযোগ্যরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি, এই নির্দেশ আসার আগে যারা আবেদন জমা দিয়েছিলেন, সেই আবেদনগুলিও বাতিল বলে গণ্য হবে।

এই রায়কে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরানোর দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষক মহল। আশা করা হচ্ছে, এই রায়ের ফলে অযোগ্যদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে এবং যোগ্য প্রার্থীরা তাঁদের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *