কোচবিহারে তৃণমূল নেতার উপর হামলা, বন্দুকের রাজনীতির প্রতিবাদে সরব শশী পাঁজা, গ্রেফতার বিজেপি বিধায়কের ছেলে

কোচবিহারে তৃণমূল নেতা ও পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ রাজু দে-কে গুলি করে আহত করার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই হামলার ঘটনায় সরাসরি বিজেপি বিধায়কের ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী শশী পাঁজা অভিযোগ করেছেন যে, “প্রতিনিয়ত হিংসার অস্ত্র ব্যবহার করে বাংলার পরিবেশ দূষিত করছে” বিরোধীরা।
হামলার নৃশংস বিবরণ:
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টা থেকে ১০টা ৩০ মিনিটের মধ্যে। তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, ঝিনাইডাঙার পার্টি অফিস থেকে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন কোচবিহার ২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ রাজু দে। অভিযোগ, সে সময়ই ‘ফিল্মি কায়দায়’ এক কালো রঙের স্করপিও গাড়িতে করে এসে দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তৃণমূল নেতার ডান কাঁধে গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি সেখানেই লুটিয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে কোচবিহারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে, যেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। ঘটনাস্থল থেকে এখনও গুলির খোল উদ্ধার হয়েছে, যা ঘটনার ভয়াবহতা প্রমাণ করে।
রাজু দে-র সরাসরি অভিযোগ:
হাসপাতাল থেকে রাজু দে এই হামলার জন্য সরাসরি স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক এবং তাঁর পুত্রকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “বিজেপি বিধায়ক তাঁর ছেলে এবং তিনি বিভিন্ন সময়ে… এই হামলার কাজ করেছেন। বিধায়ক বলতে এটা আমাদের লজ্জা, একজন জনপ্রতিনিধি… তিনি বন্দুকের রাজনীতি যেভাবে করছেন… এটা কোচবিহারের লোক কোনোভাবে মেনে নেবে না।” তাঁর এই বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
শশী পাঁজার ক্ষোভ:
রাজু দে-কে গুলি করার ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী শশী পাঁজা এই ঘটনার কড়া নিন্দা করে বলেছেন, “প্রতিনিয়ত হিংসার অস্ত্র ব্যবহার করে বাংলার পরিবেশ দূষিত করছে” বিরোধীরা। তাঁর এই মন্তব্য বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে এবং রাজনৈতিক হিংসার বিরুদ্ধে তৃণমূলের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিজেপি বিধায়কের ছেলের গ্রেফতারি:
এই হামলার ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিজেপি বিধায়কের ছেলেকে গ্রেফতার করেছে। এই গ্রেফতারি কোচবিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা বলে আখ্যা দিয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
কোচবিহারে এই ধরনের রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা নতুন নয়, তবে একজন জনপ্রতিনিধির ছেলের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার অভিযোগ ওঠায় এই ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনার পর এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।