DA আটকাতে নয়া ছক কষছে নবান্ন! রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ কর্মীদের

বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মামলা নিয়ে রাজ্য সরকার ও সরকারি কর্মীদের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত। একদিকে যখন কর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন, ঠিক তখনই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন তাঁরা। কর্মীদের দাবি, ডিএ প্রদান প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করার জন্য রাজ্য সরকার নতুন কৌশল অবলম্বন করতে পারে।
সম্ভাব্য ‘ত্রুটিপূর্ণ’ MA দাখিল করে সময় নষ্টের অভিযোগ
সম্প্রতি রাজ্য সরকারি কর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্য সরকার একেবারে শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে শুনানির নির্ধারিত তারিখের ঠিক আগে একটি ত্রুটিপূর্ণ MA (Modification Application) ফাইল করার পরিকল্পনা করছে। এই কৌশলটির মূল উদ্দেশ্য হলো, যখন সুপ্রিম কোর্ট সেই ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দেবে, তখন রাজ্য সরকার আরও কিছুটা বাড়তি সময় পেয়ে যাবে। এর ফলে মামলার নিষ্পত্তি আরও বিলম্বিত হবে।
সরকারের সম্ভাব্য কৌশলগুলি কী কী?
সরকারি কর্মীরা রাজ্য সরকারের সম্ভাব্য কিছু কৌশলের কথা উল্লেখ করেছেন, যা সরকার অবলম্বন করতে পারে বলে তাঁদের ধারণা:
শেষ মুহূর্তে আবেদন: নির্ধারিত তারিখের ঠিক আগে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্রুটিপূর্ণ আবেদন করে শুনানি বিলম্বিত করা, যাতে আদালত ত্রুটি সংশোধনের জন্য নির্দেশ দেয় এবং রাজ্য সরকার বাড়তি সময় পেয়ে যায়।
বকেয়ার পরিমাণ নিয়ে বিভ্রান্তি: কোন কর্মীদের ডিএ প্রাপ্য এবং কতদিনের বকেয়া রয়েছে, সেই বিষয়ে স্পষ্টীকরণের নামে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা হতে পারে। এর মাধ্যমেও মামলার প্রক্রিয়াকে ধীর করা সম্ভব।
কিস্তিতে ডিএ প্রদানের প্রস্তাব: এমনও শোনা যাচ্ছে যে, সরকার বকেয়া ডিএ তিনটি কিস্তিতে দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানাতে পারে। এটিও কর্মীদের প্রাপ্য ডিএ সম্পূর্ণরূপে এবং দ্রুত না দেওয়ার একটি কৌশল হতে পারে।
কর্মীদের বার্তা ও আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি
কর্মীরা বিশ্বাস করেন, রাজ্য সরকার যে পদক্ষেপই নিক না কেন, শেষ পর্যন্ত তা কর্মীদের পক্ষেই যাবে। তাঁদের ধারণা, এর ফলে আদালত ৫০% ডিএ দেওয়ার নির্দেশও দিতে পারে এবং তা কঠোরভাবে কার্যকর করার কথাও বলতে পারে। সরকারি কর্মীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালতের পাশাপাশি কর্মীদেরও নিজেদের একত্রিত শক্তি প্রদর্শন করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি দপ্তরে কাজ বন্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও তাঁরা বলছেন।
দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ
এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের মারাত্মক অভিযোগও উঠেছে। কর্মীদের মতে, সরকার সমর্থক কর্মচারী ফেডারেশনগুলিকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, বাড়ির কাছে পোস্টিং, কাজের সময় অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অনুমতি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাঁদের সন্তুষ্ট রাখা হচ্ছে, যা অন্যান্য কর্মীদের প্রতি বৈষম্যমূলক।
এই পরিস্থিতিতে, ডিএ মামলার ভবিষ্যৎ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে। রাজ্য সরকার কি সত্যিই নতুন কৌশল অবলম্বন করবে, নাকি কর্মীদের দাবির কাছে নতি স্বীকার করবে? সময়ই তা বলবে।