বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বড় ঘোষণা, দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করলেই ৪ হাজার, স্নাতক হলে মিলবে ৬ হাজার টাকা

ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তেই ভাতার বন্যা! বিহারে নির্বাচনের আগেই একের পর এক ঘুষঘুষে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সরকারের তরফে। এবার রাজ্যের যুব সমাজের জন্য এল বিশেষ ইন্টার্নশিপ প্রকল্প— ‘মুখ্যমন্ত্রী প্রতিজ্ঞা যোজনা’।

এই প্রকল্পে দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণদের জন্য মাসে ৪০০০ টাকা, স্নাতকদের জন্য ৬০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক ভাতার ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে এই নতুন প্রকল্প। স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বা আইটিআই পাশ করা ব্যক্তিরাও এই প্রকল্পের আওতায় মাসে ৪০০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত পাবেন। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা পাবেন সর্বোচ্চ ৬০০০ টাকা।

১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সি যুবক-যুবতীরা এতে আবেদন করতে পারবেন। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি করা হবে। অন্য জেলায় কাজ করলে মিলবে অতিরিক্ত ২০০০ টাকা, আর ভিন রাজ্যে ইন্টার্নশিপে গেলে আরও ৫০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা করবে সরকার।

প্রথম ধাপে বছরে ৫ হাজার যুবক-যুবতীকে এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১ লক্ষে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। ইন্টার্নশিপের মেয়াদ থাকবে ৩ থেকে ১২ মাস। আর মাসে মাসে ভাতা সরাসরি পৌঁছে যাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। পুরো প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার বরাদ্দ করেছে প্রায় ৬৮৫ কোটি টাকা।

এই ঘোষণার কিছু দিন আগেই নীতীশ সরকার প্রবীণ নাগরিক এবং বিধবাদের পেনশনও বাড়িয়েছে। আগে মাসে ৪০০ টাকা করে পেনশন পেতেন তাঁরা, এবার থেকে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়াবে ১১০০ টাকায়। জুলাই মাস থেকেই কার্যকর হবে এই বর্ধিত পেনশন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছর অক্টোবর-নভেম্বরেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই ভোটের ময়দান গরম করে তুলতে নেমে পড়েছে সব পক্ষ। ইতিমধ্যেই এনডিএ ঘোষণা করেছে, এই নির্বাচনে তাদের মুখ হবেন নীতীশ কুমারই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেও বিহারে গিয়ে প্রচার চালিয়ে এসেছেন।

রাজনীতির হিসেব বলছে— ভোট যত এগিয়ে আসে, তত বাড়ে ভাতার অঙ্ক। আর সেই অঙ্কে মেলাতে চাইছে সব দলই নিজের লাভের অঙ্ক।