মাছের নামে বিষ! হরমোন ইনজেকশন দিয়ে দ্রুত বর্ধন, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ক্রেতারা

যে মাছকে বাঙালি পাতে প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস হিসেবে দেখে, সেই মাছই এখন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ানক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কিছু অসাধু মাছচাষি ও ব্যবসায়ীরা মাছের ওজন ও আকৃতি দ্রুত বাড়ানোর জন্য তাতে হরমোন ইনজেকশন প্রয়োগ করছেন। এই ঘটনা খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
কী দেখা যাচ্ছে ভিডিওতে?
ভাইরাল ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, একজন স্থানীয় মাছচাষি মাছে ’17α-মিথাইলটেস্টোস্টেরন’ (17α-Methyltestosterone) নামক এক প্রকার হরমোন ইনজেকশন দিচ্ছেন। এই হরমোন ব্যবহারের ফলে মাছ অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে বড় হয় এবং বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা যায়, যা অসাধু ব্যবসায়ীদের লাভের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হরমোন প্রয়োগ করা মাছ খাওয়া মানবদেহে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, শিশুদের অকাল যৌবন, এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, হরমোনের অবশিষ্টাংশ মাছের মাংসে জমে থাকতে পারে, যা খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
কেন এই অবৈধ পদ্ধতি?
মূলত, বাজারে বেশি লাভের আশায় অনেক মাছ চাষি এই অবৈধ ও অনৈতিক পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। ভিডিওতে ইনজেকশন দেওয়ার প্রক্রিয়াটি এতটাই স্পষ্ট যে, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
জনগণের প্রতিক্রিয়া ও আইনি দিক:
ভিডিওটি ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা খাবারের নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটা খুব ভয়ংকর। এখন থেকে মাছ খাওয়ার আগে অনেকবার ভাবতে হবে।”
মাছ চাষে হরমোনাল ইনজেকশনের ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাছ চাষে হরমোনের ব্যবহার মূলত কৃত্রিম প্রজনন এবং লিঙ্গ পরিবর্তনের (সেক্স রিভার্সাল) জন্য করা হয়। কিন্তু এর অপব্যবহার কেবল মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর।
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে নজরদারি বাড়ানো এবং কড়া পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।