১০০ কেজির মার্লিনের টানে গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ মৎস্যজীবী, অন্ধ্রপ্রদেশে চাঞ্চল্য

মাছ ধরতে গিয়ে নিজেই বিশালাকার মাছের শিকার হলেন এক যুবক। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ২৬ বছর বয়সী চোডাপল্লি ইয়ারাইয়া নামের এক মৎস্যজীবী প্রায় ১০০ কেজি ওজনের একটি মার্লিন মাছের টানে গভীর সমুদ্রে তলিয়ে গেছেন। গতকাল (বুধবার) ভোররাতে এই ঘটনা ঘটলেও, আজ (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি। পুলিশ ও স্থানীয়রা যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

ঘটনার বিবরণ:

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চোডাপল্লি ইয়ারাইয়া অন্ধ্রপ্রদেশের পুডিমাদাকা গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার ভোররাতে তিনি তাঁর ছোট ভাই কোরলাইয়ার এবং আরও দুই মৎস্যজীবীর সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। সমুদ্র তীর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রে তাঁরা মাছ ধরার চেষ্টা করছিলেন।

হঠাৎ ইয়ারাইয়া বুঝতে পারেন, তাঁর টোপে একটি বড় মাছ আটকা পড়েছে। কিন্তু মাছটির আকার ও শক্তি সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইয়ারাইয়ার টোপে একটি নীল রঙের মার্লিন মাছ, স্থানীয়ভাবে যা ‘কোম্মু কোনাম’ নামে পরিচিত, আটকেছিল। এর ওজন প্রায় ১০০ কেজি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

ইয়ারাইয়া মাছটিকে টেনে তোলার চেষ্টা করতেই বিশালাকার মাছটি পাল্টা ঝাপটা মারে। মুহূর্তের মধ্যে বিপুল শক্তিতে ইয়ারাইয়াকে টেনেহিঁচড়ে গভীর সমুদ্রে নিয়ে চলে যায়। বাকি মৎস্যজীবীদের চোখের সামনেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই ভয়াবহতার মুখে কেউই কিছু করে উঠতে পারেননি।

তল্লাশি অভিযান ও শোকের ছায়া:

সঙ্গে থাকা তিন মৎস্যজীবী তাৎক্ষণিকভাবে ইয়ারাইয়ার সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেন, কিন্তু তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি। এরপর তাঁরা গ্রামে ফিরে গ্রামবাসীদের ঘটনাটি জানান। গ্রামের লোকজন এরপর সমুদ্রে খোঁজ শুরু করে। সারাদিন তল্লাশি চালিয়েও ইয়ারাইয়াকে খুঁজে না পাওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবারও (৩ জুলাই) সমুদ্রে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মার্লিন মাছের বিপদ:

মার্লিন মাছ গভীর সমুদ্রে পাওয়া যায় এবং এটি অত্যন্ত আগ্রাসী স্বভাবের জন্য পরিচিত। এর দীর্ঘ ছুঁচলো নাকই এর প্রধান অস্ত্র। সাধারণত ৫০ কেজি থেকে ১৫০ কেজি পর্যন্ত ওজন হতে পারে এই মার্লিন বা ‘কোম্মু কোনাম’ মাছের। অন্ধ্রপ্রদেশে এই মাছ বেশ জনপ্রিয় হলেও, এটি ধরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। এর আগেও, ২০২২ সালে আনাকাপাল্লে উপকূলে এমনই একটি মার্লিন মাছের আক্রমণে একজন মৎস্যজীবী প্রাণ হারিয়েছিলেন। ইয়ারাইয়ার এই ঘটনা আবারও মৎস্যজীবীদের জীবনের ঝুঁকি এবং সমুদ্রের প্রতিকূলতা তুলে ধরল।