ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ বলেনি ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী, জেনেনিন কারণ কী?

দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি চুক্তিতে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় শর্ত মেনে নিয়েছে বলে বুধবার ভোরে ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে শান্তি কামনাকারী মহলে আশার আলো দেখা গেলেও, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কিন্তু সম্পূর্ণ ইতিবাচক ছিল না।

হামাসের বিবৃতিতে ‘যদি’ এবং ‘কিন্তু’:

ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই হামাস একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে তারা যুদ্ধবিরতির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করলেও সরাসরি ট্রাম্পের প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ বলেনি। হামাসের মূল দাবি, এই যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত ফলশ্রুতি হিসেবে গাজায় অবশ্যই স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ হতে হবে।

কেন সরাসরি ‘হ্যাঁ’ নয়?

হামাস তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা প্রস্তাবটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতাকারীদের (যেমন কাতার, মিশর, এবং যুক্তরাষ্ট্র) সঙ্গে ‘সিরিয়াস’ আলোচনা শুরু করার জন্য কাজ করছে। গোষ্ঠীটি আরও জানিয়েছে যে, তারা গাজার অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সঙ্গেও এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবে, যা মূলত সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় নেওয়ার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে, হামাসের সরাসরি ইতিবাচক সাড়া না দেওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হলো, প্রস্তাবটিতে ‘স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ’ হওয়ার কোনো সরাসরি গ্যারান্টি নেই। এটি মূলত ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি, যার সময়কালে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। কিন্তু যুদ্ধ যে শেষ পর্যন্ত বন্ধ হবে, তার কোনো নিশ্চিত বার্তা নেই। আর এই গ্যারান্টিই হামাসের মূল দাবি, কারণ তারা ইসরায়েলের উপর কোনোভাবেই আস্থা রাখতে পারছে না।

আস্থার সংকট ও পূর্ব অভিজ্ঞতা:

হামাসের এই অবিশ্বাস ভিত্তিহীন নয়। চলতি বছরের শুরুতেও ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। সেই সময়ও কথা ছিল যুদ্ধবিরতি চলাকালীন যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু পবিত্র রমজান মাসেই ইসরায়েল মাঝরাতে গাজার উপর আবারও বর্বর হামলা শুরু করে, যা ওই যুদ্ধবিরতিকে ভেস্তে দেয় এবং আস্থার সংকট আরও বাড়িয়ে তোলে।

এখন প্রশ্ন হলো, ট্রাম্পের এই নতুন উদ্যোগ কি গাজায় সত্যিই স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারবে, নাকি পূর্বের মতোই এটি কেবল একটি সাময়িক বিরতি হয়েই থাকবে? মধ্যস্থতাকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং হামাস ও ইসরায়েলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই বলে দেবে গাজার ভবিষ্যৎ।