“ওই ছাত্রী কেন কলেজে একা গেলেন?” কসবা গণধর্ষণ-কাণ্ডে মদন মিত্রের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের মন্তব্যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। তিনি নির্যাতিতা ছাত্রীর উপরই দায় চাপিয়েছেন। শনিবার কামারহাটিতে একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মদন মিত্র বলেন, “ওই ছাত্রী কেন কলেজে একা গেলেন? আমাদের পার্টির কোনও কর্মীকে না জানিয়ে কেন গেলেন? ফাঁকা কলেজে একা চলে গেলেন? আর দুর্বৃত্তরা এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করল। কলেজে একা না গেলে তো এই ঘটনা ঘটত না।”
বিধায়কের এই ধরনের মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি ও সিপিএম এই মন্তব্যে বিন্দুমাত্র অবাক না হয়ে এটিকে তৃণমূলের ‘সংস্কৃতি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, তৃণমূল বরাবরই ধর্ষকদের পক্ষ নিয়েছে, এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যদিও তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব মদন মিত্রের এই মন্তব্যকে তার ব্যক্তিগত মতামত বলে দাবি করেছে।
মদন মিত্র এখানেই থামেননি। তিনি নির্যাতিতা ছাত্রীর দিকে একের পর এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তার কথায়, “আপনি তো ওদের চিনতেন। জানতেন যে আজ কলেজ বন্ধ রয়েছে, পরীক্ষা চলছে, কলেজে কেউ নেই। আপনাকে মেয়েদের বিভাগে সাধারণ সম্পাদক করার কথা বলল আর আপনি চলে গেলেন? যখন গেলেন, তখন চারটে বন্ধুকে নিয়ে গেলেন না কেন? মা-বাবাকে জানিয়ে গেলেন না কেন? পুরো ফাঁকা কলেজে আপনি চলে গেলেন? আর দুর্বৃত্তরা তার অ্যাডভান্টেজ নিল।”
কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডে নির্যাতিতা ছাত্রীর অভিযোগপত্রের বয়ান নিয়েও মদন মিত্র প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, “আপনি বলছেন আপনার প্রেমিককে খুন করবে! এত কিছু যদি আগে থেকেই জানতেন এবং তাদের চরিত্র সম্পর্কে যখন অবগত ছিলেন, তখন কাউকে জানালেন না কেন? কিছু না পারলে তৃণমূলের অফিসে গিয়ে যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের বলুন। আমাদের দলের কর্মীরা আপনাদের সঙ্গে যাবে। দরকার পড়লে আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্বও নেবে তারা।”
মদন মিত্র আরও মনে করেন যে কসবার ঘটনার পর থেকে মেয়েদের আর কখনও একা কোথাও যাওয়া উচিত নয়, যদি কেউ আলাদাভাবে ডাকে।
কসবার ঘটনায় ইতিমধ্যেই আইন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র মনোজিৎ মিশ্র, জাইব আহমেদ এবং প্রমিত মুখোপাধ্যায়কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র ওই কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে সেখানে কর্মরত ছিলেন। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। তবে, মদন মিত্র এদিন ধৃতকে দলের নেতা বলে মানতে চাননি।