বাড়িতে ঢুকে হিন্দু মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ, ভাইরালও করে দেওয়া হয় সেই ভিডিও!

আবারও মানবিকতার মুখে চরম আঘাত। বাংলাদেশ ফের লজ্জায় মুখ ঢাকল। কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরের এক গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবতীকে ঘরে ঢুকে ধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল। শুধু ধর্ষণই নয়, ওই নারকীয় ঘটনার ভিডিও তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও করা হয়। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত-সহ আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, বছর পঁচিশের নির্যাতিতা ১৫ দিন আগে সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে এসেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পুজোর অনুষ্ঠানে বেরিয়ে গেলে তিনি বাড়িতে একা ছিলেন। সেই সুযোগে স্থানীয় বছর ৩৮-এর এক ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে গিয়ে দরজা খুলতে বলেন। যুবতী অস্বীকার করলে, জোর করে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে যায় অভিযুক্ত। এরপর গলায় ছুরি ধরে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এখানেই শেষ নয়—ধর্ষণের পর বাড়ির বাইরে টেনে এনে তাঁকে বিবস্ত্র করে ভয়াবহ অত্যাচার চালানো হয়।
প্রতিবেশীদের একাংশ জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে যুবতীর চিৎকারে তাঁরা বাইরে এসে দেখেন বাড়ির দরজা ভাঙা, আর ভিতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন নির্যাতিতা। তাঁরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করেন এবং পুলিশে খবর দেন। অভিযুক্ত তখন এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।
পরদিন, শুক্রবার নির্যাতিতা মুরাদনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর ভিডিও ভাইরাল করার ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কেউ বলছেন তিনি বিএনপি নেতা, আবার একাংশ দাবি করছেন তিনি শাসক আওয়ামী লিগের সঙ্গে যুক্ত। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তদন্তের মুখ্য বিষয় হল অপরাধ এবং অভিযুক্তদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা।
এই ঘটনা ঘিরে গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—ধর্মীয় সংখ্যালঘু মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে, বারবার এমন হিংসা ও বর্বরতার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।