কলকাতার বুকে ফের কলঙ্ক! কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রীর গণধর্ষণ, গ্রেফতার ৩; রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

মহানগরী আবারও এক জঘন্য অপরাধের সাক্ষী। এক ল’ কলেজের ক্যাম্পাসের মধ্যেই এক ছাত্রীর গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর গতকাল রাতেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্তরা শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যাওয়ায় রাজ্য-রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলকে একহাত নিয়েছেন বিরোধী নেতৃত্ব, যার মধ্যে শুভেন্দু অধিকারী এবং অগ্নিমিত্রা পাল অন্যতম।

ঘটনার সূত্রপাত ও দ্রুত পদক্ষেপ:

সূত্রের খবর অনুযায়ী, কলকাতার কসবা এলাকার একটি আইন কলেজে এই ঘৃণ্য অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগ সামনে আসার পরই কলকাতা পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করে এবং গতকাল রাতেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযুক্তরা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ ওঠায় বিরোধী দলগুলি শাসকদলকে নিশানা করেছে।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। তৃণমূলের মদতেই দুষ্কৃতীরা এমন জঘন্য কাজ করার সাহস পাচ্ছে।” তিনি এই ঘটনার জন্য সরাসরি রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেন এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

বিজেপির বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল এই ঘটনাকে ‘শিউরে ওঠার মতো’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আরজিকর কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এই ঘটনা প্রমাণ করে রাজ্যে নারী নিরাপত্তা তলানিতে। তৃণমূলের আশ্রয়েই এমন অপরাধীরা বাড়ছে।” তিনি দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানান।

শাসকদলের অস্বস্তি:

দলের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগ থাকার অভিযোগ ওঠায় তৃণমূল কংগ্রেস স্বভাবতই অস্বস্তিতে পড়েছে। যদিও দলের পক্ষ থেকে দ্রুত গ্রেফতারির কথা বলে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বিরোধীদের আক্রমণে তারা কোণঠাসা।

এই ঘটনা আবারও রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নারী নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ। অন্যদিকে, এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব আগামী দিনে আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।