কসবার আইনছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনায় পদক্ষেপ NCW-র, চিঠি লিখলো পুলিশকে

দক্ষিণ কলকাতার আইন কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় স্তম্ভিত কলকাতা-সহ গোটা বাংলা। এই বর্বরোচিত ঘটনায় শুধু সুবিচারের দাবি নয়, বরং শিক্ষাঙ্গনে নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। জনরোষের চাপ এবং ঘটনার ভয়াবহতার প্রেক্ষিতে এবার স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই জাতীয় মহিলা কমিশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কমিশনের চেয়ারপার্সন কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি পাঠিয়ে এই বিষয়ে তাঁদের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। চিঠিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ‘অ্যাকশন-টেকেন রিপোর্ট’ (ATR) আগামী তিন দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে, নিগৃহীতা ছাত্রীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্যাতিতার চিকিৎসার সুব্যবস্থা, মানসিক সমর্থন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় মহিলা কমিশনের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং দ্রুত সুবিচার নিশ্চিত করতে চায়।
এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতার রাজপথ উত্তাল হয়ে উঠেছে। ছাত্রীকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে প্রথমেই কসবা থানার সামনে বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ শুরু করে কংগ্রেস। তাদের দেখাদেখি এরপরই পথে নামে বাম ছাত্র-যুব সংগঠন এসএফআই-ডিওয়াইএফআই।
প্রতিবাদকারীরা কসবা থানার সামনে প্রবল বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তুমুল ধস্তাধস্তি হয়। এই ধস্তাধস্তির সময় এক বিক্ষোভকারীর হাত কেটে যায় বলেও অভিযোগ উঠেছে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই উত্তেজনা চলার পর পুলিশ ধরপাকড় শুরু করে এবং বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে।
এই প্রতিবাদগুলি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সাধারণ মানুষ এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চায় না এবং শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। একদিকে জাতীয় মহিলা কমিশনের আইনি পদক্ষেপ এবং অন্যদিকে রাজপথে গণবিক্ষোভ, এই দুটিই কসবার ঘটনায় দ্রুত সুবিচার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের দাবিকে আরও জোরদার করেছে।