কসবার গণধর্ষণ, শাসকদলের নিন্দা ও ‘অপরাজিতা বিল’-এর প্রসঙ্গ, ফের শিরোনামে নারী নিরাপত্তা!

আরজিকর কাণ্ডের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও টাটকা। তার মধ্যেই দক্ষিণ কলকাতার একটি আইন কলেজে এক ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনা ফের মহানগরীর নারী নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। একই সঙ্গে তারা ‘অপরাজিতা বিল’-এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
তৃণমূলের X হ্যান্ডেলে কড়া বার্তা:
ঘটনা সামনে আসার পরপরই তৃণমূল কংগ্রেস তাদের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে। সেখানে লেখা হয়, “কলকাতা পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, এই ঘটনায় আইন অনুযায়ী কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে দোষীদের উপর কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।”
পোস্টটিতে আরজিকর কাণ্ডের পরের রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া ‘অপরাজিতা বিল’-এর প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, “এই বিল বাস্তবায়ন কতটা জরুরি তা বোঝাই যাচ্ছে, যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ-সহ, দ্রুত তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তি ব্যবস্থা করতে পারে অপরাজিতা বিল। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে কেন্দ্রীয় সরকার এটি বাস্তবায়নের জন্য কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।”
এছাড়াও, নির্যাতিতার প্রতি সংহতি জানিয়ে তৃণমূল লিখেছে, “নির্যাতিতার দ্বারা সহ্য করা গভীর যন্ত্রণা অনুভব করতে পেরে আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাজ্য প্রশাসন এই কঠিন সময়ে নির্যাতিতাকে সমস্তরকম সাহায্য করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
কে এই অভিযুক্তরা?
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই গণধর্ষণ কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে মনোজিৎ মিশ্রের নাম। ২০২২ সালে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ থেকে পাশ করা মনোজিৎ, বর্তমানে কলেজের অস্থায়ী কর্মী হিসেবে সেখানে যথেষ্ট প্রভাব খাটিয়েছিল। তার প্রোফাইল অনুযায়ী, সে আলিপুর দায়রা আদালতেও প্র্যাকটিস করত। মনোজিৎ ছাড়াও এই ঘটনায় আরও দুই অভিযুক্ত রয়েছে, যারা ওই কলেজেরই প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া।
কী ঘটেছিল সেদিন?
কয়েকটি সূত্রের দাবি, মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র ওই ছাত্রীকে ‘কলেজের জিএস’ করার টোপ দিয়ে কলেজে ডেকে আনে। এরপর সে প্রেমের প্রস্তাব দিলে ছাত্রীটি তা প্রত্যাখ্যান করে ইউনিয়ন রুম থেকে বেরিয়ে যেতে চায়। অভিযোগ উঠেছে, তখনই তাকে জোর করে গার্ডরুমে ঢুকিয়ে অত্যাচার চালানো হয়। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত ঘটনা জানানো হয়নি, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এমনই শোনা যাচ্ছে।
পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগপত্রে ছাত্রীটি জানিয়েছেন, গত বুধবার, ২৫ জুন সন্ধ্যা ৭:৩০টা থেকে রাত ১০:৫০ মিনিট পর্যন্ত কলেজের একটি ঘরে তাঁর ওপর এই পাশবিক অত্যাচার চলে। এরপর ২৬ জুন বৃহস্পতিবার কসবা থানায় তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পার্ক সার্কাসের সিএনএমসি হাসপাতালে ছাত্রীর প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদেরও শারীরিক পরীক্ষা ও বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।
এই ঘটনা আবারও রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নারী নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তৃণমূলের দ্রুত পদক্ষেপ এবং ‘অপরাজিতা বিল’ প্রসঙ্গ উত্থাপন এই বিতর্কের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।