IIT-মাদ্রাসের ক্যাম্পাসেই যৌন হেনস্থার শিকার ছাত্রী, গ্রেপ্তার হলেন মুম্বইয়ের যুবক

পশ্চিমবঙ্গের কসবার আইন কলেজের অভ্যন্তরে ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইআইটি মাদ্রাজের মতো সুরক্ষিত ক্যাম্পাসেও যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠল। বুধবার রাতে ২০ বছর বয়সী এক ইন্টার্ন ছাত্রীকে ক্যাম্পাসের মধ্যেই যৌন হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসের ফুডকোর্টের এক ২২ বছর বয়সী কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরপর এই দুটি ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ। নির্যাতিতা ছাত্রী বর্তমানে আইআইটি মাদ্রাজে ইন্টার্নশিপ করছেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি ক্যাম্পাসের ভিতরের রাস্তা দিয়ে একাই হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎই পেছন থেকে লাঠি হাতে এক ব্যক্তি তাঁর উপর চড়াও হয়। অভিযোগ, অভিযুক্ত পিছন থেকে তাঁর চুল টেনে ধরে এবং শ্লীলতাহানি করে।
তবে কোনোভাবে অভিযুক্তের কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করে ছাত্রীটি সেখান থেকে পালাতে সক্ষম হন। এরপরই তিনি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকর্মীদের বিষয়টি জানান। নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুততার সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে ধরে ফেলে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ঘটনার পর নির্যাতিতা ছাত্রী কোট্টুরপুরম মহিলা থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে ২২ বছর বয়সী অভিযুক্ত রোশন কুমারকে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রোশন আদতে মুম্বইয়ের বাসিন্দা এবং আইআইটি মাদ্রাজের ফুড কোর্টে ‘মুম্বই চাট’ নামে একটি দোকানে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করত।
পুলিশের আরও তথ্যানুযায়ী, ঘটনার দিন বুধবার রোশন ‘শরীর খারাপ’ বলে ছুটি নিয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যাবেলায় ছাত্রীটিকে একা পেয়ে সে তাঁর উপর চড়াও হয়। প্রাথমিক প্রমাণাদির ভিত্তিতে রোশন কুমারের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ধারায় মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা প্রসঙ্গে আইআইটি মাদ্রাজ একটি বিবৃতি জারি করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “২০২৫ সালের ২৫ জুন আইআইটি মাদ্রাসের ক্যাম্পাসে একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। ক্যাম্পাসের এক ভেন্ডরের এক চুক্তিভিত্তিক কর্মী অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে আসা এক মহিলা ছাত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে।”
কসবার ঘটনায় যখন গোটা বাংলা উত্তাল, তখন আইআইটি মাদ্রাজে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় দেশের শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের এই দুটি নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, কেবল শহরের জনবহুল এলাকা নয়, বরং তথাকথিত সুরক্ষিত শিক্ষাঙ্গনও এখন আর নারীদের জন্য নিরাপদ থাকছে না। প্রশ্ন উঠছে, আধুনিক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলো কি ক্রমেই অপরাধের আঁতুরঘরে পরিণত হচ্ছে? এই ঘটনাগুলি প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কর্তৃপক্ষকেও তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে বাধ্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।