ভক্তি আর ঐতিহ্যের মিশেলে রথযাত্রা উৎসব, পুরী থেকে দিঘা, দেশজুড়ে রথের ধুম!

ভক্তি আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে আজ সারা দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব। পুরীর রথ টানার হাত ধরে শুরু হওয়া এই মহাপর্বের ঢেউ আছড়ে পড়েছে রাজ্যের দিঘা থেকে সুদূর ছত্তিশগড় পর্যন্ত। লাখো পুণ্যার্থীর ভিড়ে মুখরিত রথের রাস্তা, আর প্রতিটি রথে মিশে আছে নিজস্বতা ও বিশেষত্বের ছোঁয়া।

পুরীর ঐতিহ্য: গজপতি মহারাজের ছেড়া পহঁরা

উৎসবের প্রাণকেন্দ্র পুরীতে, প্রাক্তন রাজা, গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব, শুক্রবার উপস্থিত হয়ে সম্পন্ন করেন শতাব্দী প্রাচীন ‘ছেড়া পহঁরা’ অনুষ্ঠান। রীতি অনুযায়ী, দেব-দেবী গুন্ডিচা মন্দিরে বার্ষিক যাত্রা শুরুর আগে মহারাজ সোনার ঝাড়ু দিয়ে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রার রথগুলি পরিষ্কার করেন। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমে পুরীর গ্র্যান্ড রোড আজ সকাল থেকেই জনসমুদ্র। ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রার সুবিশাল রথগুলি গুন্ডিচা মন্দিরের পথে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে দেব-দেবীগণ এক সপ্তাহ অবস্থান করবেন।

দিঘায় রথযাত্রার শুভ সূচনা, মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দিঘায়, নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরে আজ প্রথমবারের মতো রথযাত্রা শুরু হয়েছে। এই বিশেষ মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রথযাত্রার আগেই দিঘায় পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং দুপুরে রথের দড়িতে টান দিয়ে এই ঐতিহাসিক যাত্রার শুভ সূচনা করেন। দিঘার জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি হিসেবে পরিচিত স্থানে আজ রথ যাবে, যা এই রথযাত্রাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

ইসকনের বিশেষ আয়োজন: আম রথ ও ১১,০০০ কেজি আম বিতরণ

দেশজুড়ে ইসকন মন্দিরগুলিও রথযাত্রা পালনে পিছিয়ে নেই। বিশেষ করে ইসকন দ্বারকা, পুরী জগন্নাথের পর বৃহত্তম রথযাত্রার আয়োজন করেছে। তাদের রথটি ১০৮ ধরণের আম দিয়ে বিশেষভাবে সজ্জিত করা হয়েছে, যা এক অনন্য আকর্ষণ। ইসকন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা প্রায় ১১,০০০ কেজি আম ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করবে। বিকেল ৪টায় ইসকন দ্বারকায় ভক্তরা রথ টানার সুযোগ পাবেন।

সর্বত্র শুভেচ্ছা ও শুভকামনা

এই পুণ্য তিথিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুভকামনা জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। ছত্তিশগড়ের রাজ্যপাল রমেন ডেকা ২০২৫ সালের জগন্নাথ রথযাত্রা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তাঁর অফিসিয়াল ‘X’ হ্যান্ডেলে জগন্নাথ রথযাত্রা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি সকলের “সুখ, সমৃদ্ধি, সৌভাগ্য এবং সুস্বাস্থ্য” কামনা করে লিখেছেন, “বিশ্বাস এবং ভক্তির এই পবিত্র উৎসব সকলের জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি, সৌভাগ্য এবং সুস্বাস্থ্য বয়ে আনুক। জয় জগন্নাথ!”

এই রথযাত্রা উৎসব একদিকে যেমন আধ্যাত্মিকতার বার্তা বহন করছে, তেমনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে এক সুতোয় বেঁধেছে। ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষও সচেষ্ট, যাতে নির্বিঘ্নে এই মহা উৎসব সম্পন্ন হয়।