সাইবার সচেতনতায় আর শোনা যাবে না অমিতাভের কণ্ঠস্বর…কিন্তু কেন? সরকারের এই পদক্ষেপ ভালো না খারাপ!

সাইবার জালিয়াতি (cyber fraud) সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কেন্দ্রীয় সরকারের এক অভিনব উদ্যোগ এবার বন্ধ করে দেওয়া হলো। বেশ কিছুদিন ধরে যেকোনো ফোন করলেই কলার টিউনে শোনা যেত অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের (Amitabh Bachchan) কণ্ঠস্বর, যা সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিত। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে সেই কলার টিউন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

কেন বন্ধ হলো প্রচার? সরকারিভাবে সাইবার অপরাধ কমেছে, এমন কোনো ঘোষণা নেই। তাহলে কেন এই সচেতনতামূলক প্রচার বন্ধ করা হলো? জানা গিয়েছে, এই কলার টিউন নিয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে ব্যাপক অভিযোগ জমা পড়েছিল। অভিযোগকারীদের বক্তব্য ছিল, জরুরি পরিস্থিতিতে এই দীর্ঘ কলার টিউনটি যোগাযোগের পথে বাধা সৃষ্টি করছিল। ফোনের রিং বাজতে দেরি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলা যাচ্ছিল না, যা অনেকের মধ্যে বিরক্তির সৃষ্টি করেছিল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল ও অভিনেতার প্রতিক্রিয়া: সম্প্রতি, এই কলার টিউনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বয়ং অমিতাভ বচ্চনকেও ট্রলের শিকার হতে হয়েছে। কিছুদিন আগে বিগ বি একটি পোস্ট শেয়ার করে লেখেন, “হ্যাঁ স্যার, আমিও একজন ভক্ত।” এর উত্তরে একজন নেটিজেন মজা করে লেখেন, “তাহলে ফোনে কথা বলা বন্ধ করুন।” এর উত্তরে অমিতাভ বচ্চন সরাসরি জবাব দেন, “সরকারকে বলুন ভাই। আমাকে যা বলা হয়েছে তাই করেছি।” এই মন্তব্যের পরই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যে, এটি সরকারেরই একটি উদ্যোগ ছিল।

সচেতনতার ঘাটতি কি বাড়বে? এই প্রচার বন্ধের পর প্রশ্ন উঠছে, এর ফলে কি সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে সাধারণ মানুষ আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বেন? একদিকে, কলার টিউনের কারণে সৃষ্ট অসুবিধা ছিল, অন্যদিকে এই প্রচার লাখো মানুষকে সতর্ক করছিল। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে সাইবার সচেতনতা বাড়াতে অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এই বিষয়ে কেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে এই সিদ্ধান্ত নেটিজেনদের অভিযোগেরই ফল, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।